নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের মানববন্ধন নিউইয়র্কের ডাইভারসিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বাংলাদেশে কারাবন্দি সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল, অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ও ক্লাবের সদস্যপদ ফেরত, ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া এবং কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এসব দাবির পেছনে তারা বলছেন, গণমাধ্যমকে অবরুদ্ধ রেখে গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না। এই দাবিগুলো আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক উদ্বেগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সাংবাদিকদেও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও আটক নিয়ে সরাসরি আপত্তি জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংগঠনের অবস্থান: কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপি জে) ২০২৬ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নাালিস্ট (আইএফজে) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বলেছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতা জরুরি, এবং সাংবাদিকদের ওপর আইনগত হয়রানি, হুমকি ও দমন-পীড়ন বন্ধ না হলে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম সম্ভব নয়। আইএফজে আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়েও সাংবাদিকদের আটক ও রিমান্ডের ঘটনাও ঘটেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছিল, ১৪০-এর বেশি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে মামলা করা হয়েছে এবং এগুলোকে সংস্কার ছাড়া সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে । পরে ২০২৬ সালের প্রতিবেদনের সূত্রে বাংলাদেশে প্রেস ফ্রিডম র্যাঙ্কিং আরও অবনতি হয়েছে এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১৩০টির বেশি ভিত্তিহীন বিচারিক প্রক্রিয়ার কথা উঠে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্কের মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবি শুধু প্রবাসী সাংবাদিকদের ক্ষোভের প্রকাশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংবাদিক অধিকার নিয়ে চলমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন। সিপিজে, আইএফজে ও আরএসএফ —তিনটিই কার্যত একই বার্তা দিচ্ছে: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ, আটক সাংবাদিকদের মুক্তি, এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের পরিবেশ পুনর্গঠন ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী করা যাবে না। Post navigation বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে সিডনিতে আন্তর্জাতিক সেমিনার বৈশ্বিক ধাক্কা মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের নতুন চুক্তি