ক্যাম্বেলটাউনের রেমন্ড এভিনিউয়ের একটি বাড়িতে সুমন নামের অভিবাসী বাংলাদেশি ট্যাক্সীচালক, নিজ বাড়িতে গৃহবিবাদে জড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশি স্ত্রীর সাথে। পরিবারটি প্রায় ১০ বছর আগে অভিবাসী হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসে। সিডনি, অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ক্যাম্পবেলটাউনে নিজ ঘরে স্ত্রী ও দুই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৭ বছর বয়সী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সুমন আহমেদ । মঙ্গলবার দুপুরে তাকে সিডনির ক্যাম্পবেলটাউন লোকাল কোর্টে তোলা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দেন। জানা গেছে, ক্যাম্বেলটাউনের রেমন্ড এভিনিউয়ের একটি বাড়িতে সুমন নামের অভিবাসী বাংলাদেশি ট্যাক্সীচালক, নিজ বাড়িতে গৃহবিবাদে জড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশি স্ত্রীর সাথে। পরিবারটি প্রায় ১০ বছর আগে অভিবাসী হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসে। কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী বলেন, এটা পুরা কম্যুনিটির জন্য শোকের এবং সেই সাথে আমাদের সামগ্রিক সহবস্থানের জন্য আমাদের আরো সতর্ক হতে হবে। এই ভয়াবহ ঘটনায় লোকাল কম্যুনিটিতে শোকের ঝড় বইছে। আদালতে আইনজীবীর বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি মঙ্গলবার দুপুরে শুনানির সময় অভিযুক্ত শওম্যান আহমেদকে সশরীরে এজলাসে হাজির করা হয়নি। তবে তার নিযুক্ত আইনজীবী হোসাইন আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমার মক্কেল এই মুহূর্তে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন। এটি ভুক্তভোগী পরিবার, তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং পুরো কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হৃদয়বিদারক একটি পরিস্থিতি।” পুলিশের তদন্ত ও নতুন তথ্য নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিন্টেনডেন্ট মাইকেল মরোনি আজ বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, সোমবার রাতে ——-আহমেদ নিজেই জরুরি সেবা নম্বর ‘ট্রিপল জিরো’-তে কল করে জানান যে বাড়িতে একটি “অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা” ঘটেছে এবং সেখানে যেন দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ রাত ৭টা ৫০ মিনিটে রেমন্ড অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ৪৬ বছর বয়সী স্ত্রী এবং ১২ ও ৪ বছর বয়সী দুই ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ ঘরের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পড়ে থাকতে দেখে। নিহত দুই শিশুই লার্নিং ডিফিকাল্টিজ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছিল এবং শওম্যান তাদের পূর্ণকালীন কেয়ারার (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। সুপারিন্টেনডেন্ট মরোনি বলেন, “তদন্তের স্বার্থে তারা কীভাবে মারা গেছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে তিনজনের শরীরেই মারাত্মক জখমের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত সহিংস ছিল।” পুলিশ বাড়িটি থেকে বেশ কিছু আলামত জব্দ করলেও কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা বন্দুক উদ্ধার করতে পারেনি। এর আগে এই পরিবারের নামে পারিবারিক সহিংসতার কোনো রেকর্ড ছিল না বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শোক ও ক্ষোভ এদিকে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্যাম্পবেলটাউনের ওই বাড়ির চারপাশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রতিবেশীরা নিহত মা ও দুই শিশুর স্মরণে ক্রাইম সিনের পুলিশি বেষ্টনীর বাইরে ফুল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি রেখে যাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার নারী ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক গবেষকদের তথ্যমতে, চলতি বছরে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে ২৯ জন নারী ও ৯ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছেন। নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য পুলিশ গত সপ্তাহেই রাজ্যজুড়ে পারিবারিক সহিংসতা দমনে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১,০০০ এরও বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে। ঠিক তার পরপরই এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা সিডনিবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। Post navigation স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে টেস্টে ‘হোয়াইটওয়াশ’