সিডনি সিডনির প্রবাসী বাঙালি সম্প্রদায়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৯ মে সন্ধ্যায় এক বর্ণাঢ্য সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিলেন কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। শহরের সিডনির বোনিঞ্জ কনসার্ট হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘বসন্তের আবাহন’ ও ‘রবীন্দ্র-চেতনা’র মিশেলে সাজানো এই সন্ধ্যায় তিনি একে একে পরিবেশন করেন রবিঠাকুরের জনপ্রিয় সব গান। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে তাঁর প্রতিটি পরিবেশনা ছিল দর্শকদের জন্য এক পরম প্রাপ্তি। সিডনির স্থানীয় শিল্পী ও প্রবাসী দর্শকদের উপস্থিতিতে হল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। যন্ত্রীদল তাঁর গানের সঙ্গে চমৎকার আবহ তৈরি করেন। অনুষ্ঠানের শেষে সিডনির প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা: সুরের ধারায় জীবনগাথা রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বাংলা গানের জগতে, বিশেষ করে রবীন্দ্রসংগীতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার কণ্ঠের মাধুর্য এবং শুদ্ধ গায়নশৈলী তাকে দুই বাংলার সংগীতপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় বসিয়েছে। বাংলাদেশে ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তন থেকে তিনি সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রসংগীত বিভাগে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি বিখ্যাত সংগীতশিল্পী কনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীলিমা সেন এবং শান্তিদেব ঘোষের মতো গুণী শিক্ষকদের সান্নিধ্য লাভ করেন। শান্তিনিকেতনের সেই শুদ্ধ শিক্ষা বন্যার গায়নশৈলীতে এক বিশেষ গভীরতা যোগ করেছে। কর্মজীবন ও অবদান : তিনি ১৯৯২ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘সুরধ্বনি’-র প্রতিষ্ঠাতা। এর মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে শুদ্ধ সংগীত পৌঁছে দিচ্ছেন। বন্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অসংখ্য রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে, যা আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। সম্মাননা : সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। স্বাধীনতা পদক, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া বঙ্গভূষণ সম্মাননা তার অন্যতম পাওয়া। Post navigation সিডনিতে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী ৩১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান