ইতিহাসের পাতায় নতুন নাম লেখালেন এলন মাস্ক। ১২ জুন, ২০২৬—এই দিনটি কেবল এলন মাস্কের জন্যই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস-এক্স-এর শেয়ার বাজারে সফল আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে মাস্ক বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ বা লক্ষ কোটি ডলারের মালিক হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।
ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত : নিউ ইয়র্কের নাসডাক শেয়ার বাজারে স্পেস-এক্স যখন লেনদেন শুরু করল, তখন বিনিয়োগকারীদের অভূতপূর্ব সাড়া ছিল দেখার মতো। কোম্পানির শেয়ারের দাম শুরুর দিনই প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ১৬০.৯৫ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। এই উল্লম্ফন মাস্কের মোট সম্পদকে ১১০ কোটি ডলারের (১.১ ট্রিলিয়ন ডলার) ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছে দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় থাকলেও, ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার এই দৌড়ে মাস্ক অনেক আগেই অন্যদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে ছিলেন। এর আগে তার সম্পদ ৮০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি থাকলেও, স্পেস-এক্স-এর এই ব্লকবাস্টার আইপিও তাকে সেই কাঙ্ক্ষিত সীমানা পার করিয়ে দিয়েছে।
ট্রিলিয়ন ডলার আসলে কত বিশাল?
১ ট্রিলিয়ন ডলার বা ১০ লক্ষ কোটি ডলারের এই বিশাল সম্পদ সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। বিষয়টি সহজ করতে কিছু তুলনা দেওয়া যাক:
জাতীয় অর্থনীতির সাথে তুলনা: বিশ্বের মাত্র ২০টি দেশের জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ, মাস্কের একার সম্পদ নেদারল্যান্ডস বা তুরস্কের মতো দেশের বার্ষিক মোট উৎপাদনের চেয়েও বেশি!
দারিদ্র্য বিমোচন: অক্সফ্যামের মতে, এই সম্পদের মাত্র ১০ শতাংশ কর যদি বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যয় করা হতো, তবে পৃথিবীর চরম দারিদ্র্য এক বছরের জন্য দূর করা সম্ভব হতো।
সমালোচনার মুখে মাস্কের সাফল্য : এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পাশাপাশি মাস্ককে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্কের ঝড়। সমালোচকরা বলছেন, এটি ‘নতুন অভিজাততন্ত্র’ বা অলিগার্কির এক চরম পর্যায়। অক্সফ্যামের মতো সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, সম্পদ কুক্ষিগত হওয়ার এই ধারা গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক সমতার জন্য অশনিসংকেত। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে মাস্কের ঘনিষ্ঠতা এবং সরকারি চুক্তির মাধ্যমে স্পেস-এক্স-এর এই বিপুল উত্থান নিয়ে চলছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ।
মাস্কের পরবর্তী লক্ষ্য: মঙ্গলে বসতি : ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পর মাস্কের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ নাটকীয়। টেক্সাসের স্টারবেস সদর দপ্তরে কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এটি অবিশ্বাস্য যে একটি ওয়্যারহাউস থেকে শুরু হওয়া কোম্পানি আজ বিশ্বের বৃহত্তম আইপিও-র জন্ম দিয়েছে। তবে আমাদের লক্ষ্য কেবল এখানে থেমে থাকা নয়, আমাদের লক্ষ্য মানুষকে মঙ্গলে নিয়ে যাওয়া।”
মাস্কের পরিকল্পনায় রয়েছে: স্টারশিপ রকেট: মানুষের যাতায়াতের জন্য বিশাল মহাকাশযান।
মঙ্গল গ্রহের উপনিবেশ: অন্তত ১০ লক্ষ মানুষের বসতি স্থাপন। মহাকাশে ডেটা সেন্টার: পৃথিবী ছাড়িয়ে কক্ষপথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার তৈরি। এলন মাস্কের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর স্বপ্নগুলোও প্রযুক্তির সঠিক ছোঁয়ায় বাস্তবে রূপ নিতে পারে। তবে এই অঢেল সম্পদ মানবতার কল্যাণে কতটা ব্যয় হবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।



