ঢাকা: আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এক অভ্যন্তরীণ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হয়ে পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল বের করার চেষ্টা করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে তাদের সংঘাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সার্বিক বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজিকে (অপারেশনস) মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সদর দপ্তর।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির কিছু নেতাকর্মী বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও প্রচারপত্র বিতরণ করছেন। এ ধরনের কার্যক্রম জনশৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশঙ্কা করছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। একই দিন গণভবনের সামনেও দলটির সহযোগী সংগঠন যুবলীগ একটি ঝটিকা মিছিল বের করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের কারণে জননিরাপত্তা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা বা সহিংসতা কঠোর হাতে দমন করতে মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে
২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী:
ঢাকা: আগামী ২৩শে জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ গৌরবোজ্জ্বল দিনটিকে কেন্দ্র করে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা ও খাদ্য বিতরণসহ ১০ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনগুলোর আলোচনা সভা এবং সর্বশেষ আগামী ১লা জুলাই দেশব্যাপী একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও ধর্মীয় কর্মসূচি
- বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধা: ২৩শে জুন সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
- বনানী কবরস্থানে মোনাজাত: ১৫ই আগস্টের শহীদ এবং ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা দিবসে নিহত জাতীয় নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
- টুঙ্গিপাড়ায় শ্রদ্ধা ও দোয়া: টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এছাড়া টুঙ্গিপাড়া কমপ্লেক্স মসজিদসহ সারা দেশের সকল মসজিদে বাদ জোহর বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
- বিশেষ প্রার্থনা ও খাদ্য বিতরণ: দেশব্যাপী মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। একই সাথে দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
সাংগঠনিক ও প্রচারণামূলক কর্মসূচি
- পতাকা মিছিল: দলের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দলের সর্বস্তরের ও সকল শাখাসমূহে যথাযথ মর্যাদার সাথে দিবসটি পালন করা হবে।
- প্রচারণা: কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনসমূহ পোস্টার, লিফলেট প্রকাশনা ও দেয়াল লিখন কর্মসূচি পরিচালনা করবে।
কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের আলোচনা সভা (২৩ – ৩০শে জুন)
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩শে জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ানুযায়ী ভার্চুয়াল এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তিনি প্রধান অতিথি ও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।



