২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির বীরত্বগাথা যুক্ত হচ্ছে না। সরকারের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভার চূড়ান্ত পরিকল্পনায় বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচ্যসূচি রাখা হয়নি।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই সম্পাদনার কাজ ইতিমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ওসমান হাদির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকছে না। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে এটি যুক্ত হবে কি না, তা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা ও বিষয়ভিত্তিক কমিটি নির্ধারণ করবে।

২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে আমূল পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন পাঠ্যবইয়ে নতুন কোনো বিষয় যুক্ত বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৬টি বইয়ের সম্পাদনা শেষ হলেও সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণির নতুন দুটি বইয়ের কাজ বাকি রয়েছে, যা আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক দুটি প্রবন্ধের আলোকে নতুন পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ অংশে পূর্বের চার নেতার সঙ্গে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জীবনী যুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০২৮ সালের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ অধ্যায়ে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন, আবু সাঈদ ও মুগ্ধর আত্মত্যাগের বর্ণনার মতো করে শরীফ ওসমান বিন হাদিকেও অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রাথমিক চিন্তা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল বিষয়ভিত্তিক কমিটির হাতেই থাকছে।



