এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এক নারী কর্মীর আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের পর দলটির তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির এক নারী কর্মী দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। ওই তরুণী নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন।
তরুণীর অভিযোগ, নারীশক্তির কমিটি নিয়ে সাংগঠনিক আলোচনার কথা বলে এনসিপির মহানগর নেত্রী সাদিয়া আফরিন তাকে গত ১৪ জুন নগরীর পেনিনসুলা হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বৈঠকের স্থান হিসেবে নির্ধারিত জায়গাটি আসলে হোটেলের একটি ‘রুফটপ বার’। ওই পরিবেশে তাকে ধূমপান ও ড্রিংকস (পানীয়) গ্রহণে উৎসাহিত করা হয়, যা তার জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করলে নেত্রী সাদিয়া আফরিন তাকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে একপর্যায়ে স্থান ত্যাগ করেন। এরপর সেখানে উপস্থিত এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ওই তরুণীর প্রতি আপত্তিকর আচরণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় এবং প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাঁকে ভয়ভীতিও দেখানো হয়। সংগঠনের আন্তর্জাতিক মান রক্ষা প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এনসিপিতে বিদেশ থেকে পড়াশোনা বা আন্তর্জাতিক এনজিওতে কাজ করা কিছু নেতা আছেন, যাঁদের কাছে মদের বারে আড্ডা দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এনসিপির ধর্মভীরু বা হিজাবী নারীদের পক্ষে এমন পরিবেশে কাজ করা কঠিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, ভুক্তভোগী নারী এখনো কোনো বিচার পাননি, উল্টো বলা হচ্ছে তিনি সুজাউদ্দিনের রাজনৈতিক অবস্থান নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করছেন। রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, “৫ আগস্টের পরে রাজনীতিতে আসা নেতার আসলে রাজনৈতিক অবস্থানটা কি?”



