সিডনি: অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) লেবার পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘২০২৬ এনএসডব্লিউ লেবার স্টেট কনফারেন্স’ সিডনির ঐতিহাসিক টাউন হলে জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে। শনিবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত ডেলিগেট, সংসদ সদস্য, কাউন্সিলর, ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি এবং শীর্ষ দলীয় নেতারা অংশ নিয়েছেন।
এবারের সম্মেলনে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান সদস্যদের সক্রিয় ও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। আগামী ২০২৭ সালের এনএসডব্লিউ রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নীতি নির্ধারণ, সাংগঠনিক কৌশল এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে এই সম্মেলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্সের উদ্বোধনী ভাষণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন এনএসডব্লিউর প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রথম মেয়াদের সাফল্য ধরে রেখে দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করা সহজ হবে না। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি অর্থনীতি শক্তিশালী করা, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন। বিশেষ করে আগামী দিনের শিল্পায়ন ও উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করার ওপর তিনি জোর দেন।

হান্টার অঞ্চলে নতুন শিল্প উদ্যোগ: প্রিমিয়ার মিন্স হান্টার অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে ট্রেন উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার একটি মেগা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ১,০০০-এরও বেশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং রাজ্যের উৎপাদনশীল খাত নতুন গতি পাবে।
বহুসংস্কৃতিবাদের পক্ষে অবস্থান: প্রিমিয়ার তার বক্তব্যে বিভাজনের রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “নিউ সাউথ ওয়েলসের মূল শক্তিই হলো এর বহুসাংস্কৃতিক সমাজ।” অভিবাসী সম্প্রদায়ের অবদানকে খাটো করে দেখার বা সমাজে বিভক্তি তৈরি করার যেকোনো রাজনৈতিক অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আকর্ষণ
সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার বক্তব্যে ফেডারেল সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার, আবাসন সংকট সমাধান, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এবং জাতীয় পর্যায়ে লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রভাব ও গুরুত্ব
এবারের এনএসডব্লিউ লেবার স্টেট কনফারেন্সে বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ানদের বিপুল উপস্থিতি কেবল সংখ্যার দিক থেকেই নয়, বরং গুণগত দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কমিউনিটির কণ্ঠস্বর: সিডনিসহ এনএসডব্লিউর বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তারা এখন আর কেবল ভোটার হিসেবে নয়, বরং নীতি নির্ধারণী পর্যায়েও ভূমিকা রাখছেন। আবাসন সমস্যা, অভিবাসন নীতি, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং বহুসাংস্কৃতিক অনুদানের মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির দাবি ও মতামত এখন লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসছে। মূলধারার রাজনীতিতে এই অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার আইনসভা ও স্থানীয় সরকারগুলোতে আরও বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পথ সুগম করবে।



