মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা
--:--
সিডনি
--:--
ব্রেকিং
শাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকরপাঠ্যবইয়ে থাকছে না ওসমান হাদির বীরত্বগাথাএবিএম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলশাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকরপাঠ্যবইয়ে থাকছে না ওসমান হাদির বীরত্বগাথাএবিএম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল
মতামত

মবের অবসান চাই এখনই

ড. আমান রহমান ২ সপ্তাহ আগে শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ১৩৪ বার পঠিত

আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের সমার্থক শব্দ হলো শৃঙ্খলা। কিন্তু ইদানীং আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন ও ভয়ঙ্কর ব্যাধি জেঁকে বসেছে, যা ‘মব কালচার’ বা উশৃঙ্খল জনতার আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নামে পরিচিত। যখনই কোনো আইনবহির্ভূত জমায়েত বিচারকের ভূমিকা অবতীর্ণ হয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেনস্তা, আক্রমণ কিংবা চূড়ান্তভাবে প্রাণনাশের দিকে ঠেলে দেয়, তখন বুঝতে হবে সমাজের মৌলিক কাঠামোটাই ধসে পড়ছে। এই আত্মঘাতী এবং অন্ধকার সংস্কৃতির অবসান এখনই হওয়া জরুরি।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তুচ্ছ কিংবা গুজবভিত্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মতো চরম অমানবিক ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চোর সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলা, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা, কিংবা ক্ষুব্ধ জনতা মিলে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রাঙ্গণে গিয়ে জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনাগুলো কোনো সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। এই প্রবণতা কেবল আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় না, বরং সমাজকে এক আদিম ও বর্বর যুগের দিকে ধাবিত করে।

মব কালচারের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, এখানে কোনো সত্য-মিথ্যার যাচাই থাকে না। উত্তেজিত জনতার কোনো চেহারা থাকে না, থাকে না কোনো দায়বদ্ধতা। গুজবের ওপর ভর করে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হওয়া উগ্রতা কেড়ে নেয় মানুষের জীবন, সম্মান আর বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার। কোনো অপরাধের বিচার করার জন্য রাষ্ট্রে নির্দিষ্ট আইন, পুলিশ ও আদালত রয়েছে। কেউ অপরাধী হলেও তার আত্মপক্ষ সমর্থনের এবং প্রচলিত আইনে বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ‘মব’ বা উশৃঙ্খল জনতা যখন নিজেই বিচারক আর নিজেই জল্লাদ হয়ে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা থাকে না।

এই বিচারহীনতা ও নৈরাজ্যের সংস্কৃতি রাতারাতি তৈরি হয়নি। আইনের প্রয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়াই এই দানবকে দিন দিন শক্তিশালী করেছে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজকে টিকিয়ে রাখতে হলে এই ধারা আর চলতে দেওয়া যায় না। কোনো সভ্য রাষ্ট্র মবের কাছে জিম্মি হতে পারে না।

এখনই সময় এই উন্মাদনা রুখে দাঁড়ানোর। প্রশাসনকে আরও কঠোর ও তৎপর হতে হবে। যেখানেই মব জাস্টিসের চেষ্টা হবে, সেখানে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এই উস্কানির পেছনে থাকা মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে নাগরিকদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে কেউ গুজবে কান দিয়ে বা আবেগের বশবর্তী হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে না নেন।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা থাকবে রাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে, কোনো উগ্র জনতার মর্জির ওপর নয়। মব সংস্কৃতির অবসান কোনো বিকল্প নয়, এটি রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের টিকে থাকার অপরিহার্য শর্ত।