বিশ্বকাপ থেকে অশ্রুসিক্ত বিদায়ের পর অবশেষে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। রবার্তো মার্টিনেজের বিদায়ের পর পর্তুগাল জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ৭১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ কোচ হোর্হে জেসুস। আর দায়িত্ব নিয়েই ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার জন্য জাতীয় দলের দরজা উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমে আল-নাসরের হয়ে রোনালদোর সাথে কাজ করেছেন হোর্হে জেসুস। সেখানে তার অধীনেই সৌদি প্রো লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় ক্লাবটি। এবার সেই চেনা গুরুকে জাতীয় দলেও পাচ্ছেন রোনালদো।
স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে পর্তুগাল এবারের বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেওয়ার পর দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ফর্মে ফিরতে বেশ লড়াই করতে হয়েছিল রোনালদোকে। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ঘোষণা করেছিলেন, এটিই হতে যাচ্ছে তার ষষ্ঠ এবং শেষ বিশ্বকাপ। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে পুরোপুরি অবসর নেওয়ার ব্যাপারে তখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।
পর্তুগাল ফুটবল দলের কোচ হিসেবে আত্মপ্রকাশের দিনে হোর্হে জেসুস রোনালদোকে নিয়ে নিজের ইতিবাচক ভাবনার কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, রোনালদো কখনোই জাতীয় দল বা তার নিজের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবেন না।
আল-নাসরে রোনালদোর সাথে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ করে জেসুস বলেন, “আমি যখন আল-নাসরের প্রধান নির্বাহী হোসে সেমেদো এবং ক্রিস্টিয়ানোর আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম, তখন এই চ্যালেঞ্জটি নিয়েছিলাম মূলত ক্রিসকে সৌদিতে ট্রফি জিততে সাহায্য করার জন্য। সেটি আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল এবং আমরা তা অর্জন করতে পেরেছি। ক্রিস্টিয়ানো শুধু সৌদি আরবের ফুটবল নয়, আল-নাসরের জন্যও যা করেছে তা সত্যিই অনন্য।”
জাতীয় দলে রোনালদোকে কীভাবে সামলাবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জেসুস বেশ দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমি এখনো ক্রিসের সাথে কথা বলিনি। তবে সে দলে থাকা কখনোই কোনো সমস্যা তৈরি করবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হলে আমি অবশ্যই তার সাথে কথা বলব। শুধু তার সাথেই নয়, দলের সবার সাথে আমি আলাদাভাবে কথা বলব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সে কেবল রোনালদো বলেই আমি তার সাথে কথা বলব এমন নয়; সে পর্তুগিজ ফুটবল এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের একটি প্রতীক। ফুটবল ইতিহাসে তা সব সময় অম্লান থাকবে। তার সাথে কাজ করা ভীষণ সহজ। একজন খেলোয়াড় হিসেবে সে কতদূর যেতে পারে আর কোচ হিসেবে আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিধি কতটুকু, তা আমরা দুজনেই ভালো বুঝি। যতদিন সে খেলার মধ্যে থাকবে এবং দলে ডাক পাওয়ার মতো অবস্থায় থাকবে, ততদিন দলের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে আমি অবশ্যই তাকে দলে রাখব।”
এদিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর আবেগঘন এক বার্তায় রোনালদো বলেছিলেন, “এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়াটা আমার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি এবং পরিষ্কার বিবেক নিয়েই বিদায় নিচ্ছি। হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ, তবে এখন আমি পরিবারের সাথে সময় কাটাব এবং চিন্তাভাবনা করার সুযোগ পাব। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।”
নতুন কোচের এই সবুজ সংকেতের পর ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—তাহলে কি সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে আবারও পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যেতে পারে ফুটবল বিশ্বের এই জীবন্ত কিংবদন্তিকে?



