ম্যাচের আগে যত আলোচনা ছিল, তার বেশিরভাগই ঘিরে ছিল আর্লিং হালান্ডকে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই গোলদাতার দিকে ছিল কোটি কোটি সমর্থকের চোখ। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, নরওয়েকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতে বড় মঞ্চে আবারও জ্বলে উঠবেন হালান্ড। কিন্তু ইংল্যান্ডের সুসংগঠিত রক্ষণে পুরো ম্যাচজুড়েই ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ। আর সেই সুযোগে জুড বেলিংহ্যামের অসাধারণ নৈপুণ্যে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াইয়ের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। মাঝমাঠের দখল নিয়ে দুই দলের লড়াই চলতে থাকে। ইংল্যান্ড বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও নরওয়ে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে বারবার বিপদের ইঙ্গিত দেয়।
৩৬তম মিনিটে সেই আক্রমণ থেকেই আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় নরওয়ে। গোলের পর স্টেডিয়ামে উপস্থিত নরওয়েজিয়ান সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যেন জানিয়ে দিচ্ছিল, বহু প্রতীক্ষিত ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
গোল হজমের পর ছন্দ হারায়নি ইংল্যান্ড। বরং আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় তারা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তারই ফল পায় থ্রি লায়ন্সরা। বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়ে দারুণ এক শটে সমতায় ফেরান জুড বেলিংহ্যাম। বিরতিতে যাওয়ার আগে এই গোল ম্যাচের গতিপথই বদলে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে হালান্ডকে ঘিরে ছিল বাড়তি নজর। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডাররা প্রায় পুরো সময়ই তাকে কড়া মার্কিংয়ে রাখেন। কয়েকবার বল পেলেও স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকারকে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডও একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও নায়ক বেলিংহ্যাম। ৯৩তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। এই গোলের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে নরওয়ে।
শেষ মুহূর্তগুলোতে একের পর এক আক্রমণ চালায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। হালান্ডও কয়েকবার গোলের সুযোগ খুঁজেছেন। একবার নরওয়ে বল জালেও জড়িয়েছিল, তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর আর কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় স্বপ্নভঙ্গ হয় নরওয়ের।
ম্যাচ শেষে বেলিংহ্যামই ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল নায়ক। তার জোড়া গোলই ইংল্যান্ডকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত জয় এবং বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট। অন্যদিকে, হালান্ডকে ঘিরে যত প্রত্যাশা ছিল, সেগুলো পূরণ হয়নি। পুরো টুর্নামেন্টে নরওয়ের আক্রমণের মূল ভরসা থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডের শক্ত রক্ষণ ভেদ করতে পারেননি তিনি।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে আরেকবার শিরোপার স্বপ্ন জিইয়ে রাখল ইংল্যান্ড। আর বিশ্বকাপে স্মরণীয় এক যাত্রার ইতি টানতে হলো নরওয়েকে। হালান্ডের অপেক্ষা তাই আরও দীর্ঘ হলো—বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেকে অমর করে রাখার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এখনও ধরা দিল না।



