মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা
--:--
সিডনি
--:--
ব্রেকিং
শাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকরপাঠ্যবইয়ে থাকছে না ওসমান হাদির বীরত্বগাথাএবিএম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলশাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকরপাঠ্যবইয়ে থাকছে না ওসমান হাদির বীরত্বগাথাএবিএম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল
অস্ট্রেলিয়া

 বিশ্বের সেরা ১০ বাসযোগ্য শহরের ৩টিই অস্ট্রেলিয়ার

dsinsider ২ সপ্তাহ আগে রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৭৯ বার পঠিত
সিডনি অপেরা হাউজ

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স বা বসবাসের জন্য সেরা শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে। ইআইইউ পাঁচটি মূল সূচকের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবছর ১৭৩টি শহরের তালিকা তৈরি করে থাকে। যে সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়, সেগুলো হচ্ছে স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। ২০২৬ সালে বসবাসের জন্য কোন কোন শহর সেরা ১০-এ জায়গা করে নিয়েছে, তা দেখে নেওয়া যাক।

১. কোপেনহেগেন (ডেনমার্ক)

টানা দ্বিতীয় বছর ইআইইউ গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স বা বসবাসের জন্য সেরা শহরের সূচকে ১ নম্বরে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। এ বছর স্থিতিশীলতা, শিক্ষা ও অবকাঠামোতে শহরটি পূর্ণ নম্বর পেয়েছে। পাশাপাশি সংস্কৃতি ও পরিবেশ সূচকে অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে। শহরের বাসিন্দারা দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আনন্দগুলো সহজাতভাবে উপভোগ করেন।

এই শহরে সামাজিক বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ়। এখানে কেউ চাপে বা তাড়াহুড়াতে নেই। উন্মুক্ত বাজার আর পার্কে শিশুদের ছোটাছুটি ও কোলাহল দেখে এই শহরে সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়। এখানকার বাসিন্দারা বলেন, এ শহর কখনো নিজেকে জাহির করে না। কিন্তু সব সময়ই প্রত্যাশা পূরণ করে।

২. ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া)

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা গত বছরই সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় কোপেনহেগেনের কাছে প্রথম স্থানটি হারায়। তবে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নিখুঁত স্কোর করার কারণে শহরটি এবারও দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বাসিন্দাদের কাছে ভিয়েনার বসবাসযোগ্যতার মূল আকর্ষণ হলো সহজে চলাফেরা করার সুবিধা—হোক তা গণপরিবহনে কিংবা পায়ে হেঁটে।

৩. মেলবোর্ন (অস্ট্রেলিয়া)

তৃতীয় স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়ার শহর মেলবোর্ন। শহরটি সংস্কৃতি ও পরিবেশের সম্মিলিত সূচকে সর্বোচ্চ ৯৬ নম্বর পেয়েছে।  

ক্রাউন প্লাজা কার্লটনের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান মেরি এর আগে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখানকার মানুষ সত্যিই আপনার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। আর তার ওপর রয়েছে এখানকার সংস্কৃতি, খাবার, সংগীত, ফ্যাশন ও শিল্প। প্রতিটি উপশহরের নিজস্ব আলাদা আবহ ও পরিচয় রয়েছে।’

৪. সিডনি (অস্ট্রেলিয়া)

মেলবোর্নের মতো অস্ট্রেলিয়ার আরেক শহর সিডনিও এই তালিকায় রয়েছে। এই নগর স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় শহরটি শতভাগ নম্বর পেয়েছে। তবে এখানকার বাসিন্দারা বলেছেন, প্রকৃতির সহজলভ্যতা, বহু সাংস্কৃতিক মানুষ এবং ঘরের বাইরে জীবনকে উপভোগ করার সুযোগই শহরটিকে এত বেশি বসবাসযোগ্য করে তুলেছে। ‘সিডনি জীবনকে সহজ করে তোলে। আপনি শহরের যেখানেই থাকুন না কেন, দারুণ কোনো দৃশ্য থেকে কখনোই খুব বেশি দূরে থাকবেন না—তা সে বন্দর হোক, নীল পর্বতমালা হোক কিংবা সমুদ্রসৈকত।’

‘ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মেলবন্ধন, শহরতলী, অসাধারণ খাবার এবং জীবনযাপনের ধরন—এ সবকিছু সিডনিকে বিশেষ করে তুলেছে। এটি একটি বৈশ্বিক শহর। তবু মনে হয়, যেন এটি অনেকগুলো স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি শহর।’

৫. জুরিখ (সুইজারল্যান্ড)

যদিও ২০২৫ সালে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জুরিখ এ বছর পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে। কিন্তু শহরের বাসিন্দারা বলছেন, শহরটির দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতির কাছে সহজে পৌঁছানোর সুযোগই এখানকার অসাধারণ জীবনমানের মূল ভিত্তি। ‘এখানকার পানিগুলো সতেজ ও স্বচ্ছ, আর পুরো শহরজুড়ে ১ হাজার ২০০ এর বেশি ঝরনা রয়েছে, যেগুলোর পানি পান করা যায়।’

৬. জেনেভা (সুইজারল্যান্ড)

জনকল্যাণমূলক নীতি ও সুশৃঙ্খল অবকাঠামোর কারণে সুইজারল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে প্রথম সারির দেশ। সুইজারল্যান্ডের দুটি শহর বসবাসের জন্য সবচেয়ে ভালো শহরের তালিকায় প্রথম ১০-এ স্থান পেয়েছে।

জেনেভা শহরটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সহজে চলাচলের উপযোগী। তবে জেনেভার বাসিন্দারা মনে করেন, তাদের শহরের পরিবেশ অন্যান্য শহর থেকে কিছুটা আলাদা। এটি আয়তনে ছোট ও ঘনিষ্ঠভাবে বিন্যস্ত। এখানে নির্ঝঞ্ঝাট থাকা যায় এবং একটি বৈশ্বিক কেন্দ্রে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকে, এর সবই রয়েছে এ শহরে। সুইজারল্যান্ডের অন্যতম বৈচিত্র্যপূর্ণ শহরও জেনেভা।  

৭. ওসাকা (জাপান)

জাপানের ছোট্ট শহর ওসাকা গতবছরের মতো এ বছরও সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় নিজের সপ্তম স্থান ধরে রেখেছে। জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো ওসাকা অতটা আলো-ঝলমলে নয়। কিন্তু শহরটির নিজস্ব একটি ছন্দ রয়েছে। জীবনধারার সেই ছন্দই ওসাকার বাসিন্দাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

৮. অ্যাডিলেড (অস্ট্রেলিয়া)

সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় শহর অ্যাডিলেড। গত বছরের তুলনায় এ বছর শহরটি একধাপ এগিয়ে ৮ নম্বরে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে ছিল ১১ নম্বর। অর্থাৎ শহরটি দিন দিন নিজেদের অবস্থার উন্নতি করছে এবং আরও বেশি বাসযোগ্য হয়ে উঠছে।

৯. ভ্যাঙ্কুভার (কানাডা)

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের মতো কানাডার শহর ভ্যাঙ্কুভারও গত বছরের চেয়ে এ বছর এক ধাপ এগিয়েছে। সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় এবার ভ্যাঙ্কুভারের অবস্থান নবম। একসঙ্গে এটি তালিকায় স্থান পাওয়া উত্তর আমেরিকার একমাত্র শহর।

১০. টোকিও (জাপান)

জাপানের রাজধানী টোকিও এ বছর তিন ধাপ এগিয়ে সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষ ১০-এ উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে টোকিওর সামগ্রিক স্কোর হচ্ছে-৯৬। শহরটি স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় পূর্ণ নম্বর ১০০ পেয়েছে। এ ছাড়া সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৮৯ এবং অবকাঠামোতে ৯৩ নম্বর পেয়েছে।