মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা
--:--
সিডনি
--:--
ব্রেকিং
শাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকরপাঠ্যবইয়ে থাকছে না ওসমান হাদির বীরত্বগাথাএবিএম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলশাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকরপাঠ্যবইয়ে থাকছে না ওসমান হাদির বীরত্বগাথাএবিএম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল
খেলা

সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিতে মেসির আর্জেন্টিনা

dsinsider ২ সপ্তাহ আগে রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৯৩ বার পঠিত

কানসাসে রাত যত গভীর হয়েছে, ততই যেন ফুটবল হয়ে উঠেছে এক মহাকাব্য। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখা এক লড়াইয়ের শেষে আবারও বিশ্বকে মনে করিয়ে দিল আর্জেন্টিনা সহজে হার মানে না। অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চে সুইজারল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। সুইসদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ বারবার আর্জেন্টিনার আক্রমণ ঠেকিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু মাঠে যখন লিওনেল মেসি থাকেন, তখন এক মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো গল্প। তাঁর নিখুঁত কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে প্রথম গোলটি করেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। গ্যালারি তখন নীল-সাদা উল্লাসে ফেটে পড়ে।
তবে সুইজারল্যান্ড এত সহজে হার মানার দল নয়। দ্বিতীয়ার্ধে দান এনদোয়ে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর দুই দলই একের পর এক আক্রমণ চালালেও নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল আসেনি। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েই দেখা যায় চ্যাম্পিয়নদের আসল রূপ। ক্লান্ত শরীর, কিন্তু অদম্য মানসিকতা নিয়ে আর্জেন্টিনা আক্রমণের গতি বাড়ায়। ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এরপর যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্টিনেজ শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সুইসদের স্বপ্নের কফিনে। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩–১।
এই ম্যাচে হয়তো মেসির নাম গোলদাতাদের তালিকায় নেই, কিন্তু পুরো লড়াইজুড়ে তাঁর উপস্থিতিই ছিল আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রথম গোলের কর্নারটি তাঁর পা থেকেই আসে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়া, সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখা—সব মিলিয়ে আবারও তিনি প্রমাণ করলেন, ফুটবল শুধু গোলের খেলা নয়; এটি নেতৃত্ব, দৃষ্টি আর সৃজনশীলতারও খেলা। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি যেন সময়কে হার মানিয়ে চলেছেন।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে কানসাস সিটি স্টেডিয়াম পরিণত হয় নীল-সাদা উৎসবে। গ্যালারিতে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের চোখে জল, মুখে হাসি। খেলোয়াড়রা ছুটে যান মেসির দিকে। সতীর্থদের আলিঙ্গনে দাঁড়িয়ে থাকা ফুটবল জাদুকর যেন আরেকটি স্বপ্নের দিকে তাকিয়ে—আর মাত্র দুটি জয়, তারপর হয়তো বিশ্বকাপ ইতিহাসে যোগ হবে আরেকটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় আরেকটি মহারণের, যেখানে আবারও কোটি কোটি চোখ থাকবে এক মানুষের দিকে—লিওনেল মেসি। তিনি কি পারবেন আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার আরও কাছে নিয়ে যেতে? সেই উত্তর মিলবে সেমিফাইনালের মঞ্চে।