শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
ঐতিহাসিক ১৭ মে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সিডনির লাকেম্বার একটি স্থানীয় মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ। প্রবাসে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মিলনায়তনটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক হুইপ সানজিদা খানম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ডক্টর সিরাজুল হক। দিনটি উপলক্ষে শেখ হাসিনার দুর্লভ কিছু ছবির প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক হুইপ সানজিদা খানম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ১৯৮১ সালের ১৭ই মে শুধু একজন ব্যক্তির ফিরে আসা ছিল না, ওটা ছিল কোটি বাঙালির আশা, আকাঙ্ক্ষা আর হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রের ফিরে আসা। সেদিন প্রতিকূল আবহাওয়া আর তৎকালীন সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রেখেছিলেন বলেই আজ আমরা বুক ফুলিয়ে বাঙালির আত্মপরিচয় দিতে পারছি।
সভাপতির বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ডক্টর সিরাজুল হক বলেন, শেখ হাসিনা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য নিজের জীবনকে বারবার ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলসহ বহুবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তিনি দমে যাননি। আজ প্রবাস থেকে আমাদের দায়িত্ব হবে তার হাতকে শক্তিশালী করা। ডক্টর সিরাজুল হক বলেন, দেশ-বিদেশে এখনও দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তার দেশে ফেরার দিনটিকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে অভিহিত করা হয়। বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশ যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল, তখন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ছিল আলোর দিশারী। তিনি এসে ভঙ্গুর গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পগুলো তাঁর সাহসী সিদ্ধান্তের ফসল। তারা বলেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের শিক্ষা হলো অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম। অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ সব সময় তার আদর্শ ও নির্দেশ মেনে প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।”
অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ই আগস্টের সকল শহীদ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী তিরিশ লক্ষ শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়। নৈশভোজের মধ্য দিয়ে এই আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘটে।
অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান কচির সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা গামা আব্দুল কাদের। স্বাগত বক্তব্য রাখেরআবুল বাসার রিপন। প্রধান বক্তা ছিলেন ড. আবুল হাসনাৎ মিলটন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, মহিলা আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি বিলকিস জাহান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন ডা. ইমরান এইচ সরকার, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস এন্ড মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি রহমত উল্লাহ, ঢাকা সিডনি ইনসাইডারের প্রধান সম্পাদক আজাদ কবির, সিনিয়র সাংবাদিক আতাউর রহমানসহ সিডনির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।



