শুরুতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে নেতাকর্মীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সদস্যরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বাধ্য হন। নোয়াখালী সদর উপজেলায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজ শেষে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিলকারীদের বিপুল উপস্থিতি ও জনস্রোত দেখে ঘটনাস্থলে থাকা সুধারাম থানা পুলিশের একটি দল একপর্যায়ে পিছু হটে। বিশাল জনসমাগম ও পুলিশের ভূমিকা : স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের ‘সন্ত্রাস ও চাদাবাজির’ প্রতিবাদ এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষ হওয়া মাত্রই সদর উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের এক হাজারেরও বেশি কর্মী-সমর্থক বাঁধের হাট বাজারে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন।মিছিলের শুরুতে সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নেতাকর্মীদের বিশাল সংখ্যার কাছে তারা টিকতে পারেননি। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের মারমুখী অবস্থান ও তীব্রতা দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। ‘শেখ হাসিনা না ফেরা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না’ : এই বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যেকেই অন্যায়, জুলুম ও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজপথে নেমেছি। আমাদের এই আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা দেশে ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হবো না, রাজপথও ছাড়বো না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যায় ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে তাদের নৈতিক দায়িত্ব। ওসির বক্তব্য: ‘অতিরিক্ত সংখ্যার কারণে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি’ : বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারীর মুখে পুলিশ সদস্যদের সরে যাওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, মিছিলের খবর আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের একটি অগ্রবর্তী দল সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। তবে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি হওয়ায় পুলিশের ওই ছোট দলটির পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল না। শুরুতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে নেতাকর্মীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সদস্যরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বাধ্য হন। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। Post navigation চিরনিদ্রায় শায়িত প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ