সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে ৯% থেকে ১০% এর উপরে অবস্থান করছে, যা বিগত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ এবং ব্রয়লার মুরগির মতো নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
ঢাকা: বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম ‘মূল্যস্ফীতি’। বিশেষ করে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করলে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে ওঠে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে ৯% থেকে ১০% এর উপরে অবস্থান করছে, যা বিগত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ এবং ব্রয়লার মুরগির মতো নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাংলাদেশের বাজারে এই রেকর্ড মূল্যস্ফীতির পেছনে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বেশ কিছু সামষ্টিক অর্থনৈতিক কারণ দায়ী।
টাকার অবমূল্যায়ন ও ডলার সংকট: মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার ক্রমাগত অবমূল্যায়েনের ফলে আমদানি খরচ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানিতে বাড়তি খরচ সরাসরি দেশের উৎপাদন ও পরিবহন খাতে প্রভাব ফেলছে। এদিকে দেশের উৎপাদক থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে। সার, বীজ, কীটনাশক এবং সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষি উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।
জনজীবনে এর প্রভাব : মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। বিবিএস-এর তথ্যানুযায়ী, শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপ কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি অনুভূত হচ্ছে। মানুষের আয়ের বড় একটি অংশ কেবল খাবার কিনতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে চিকিৎসা, শিক্ষা ও সঞ্চয়ের মতো মৌলিক জায়গাগুলোতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। বাস্তব আয়ের (জবধষ ওহপড়সব) পতন ঘটায় দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি এবং ক্রলিং পেগ পদ্ধতির মতো কিছু মুদ্রানীতি সংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে কেবল মুদ্রানীতি দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনের ত্রুটি দূর করতে কঠোর বাজার মনিটরিং এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা সম্ভব নয়। আমদানি নির্ভরতা কমাতে অভ্যন্তরীণ কৃষি ও উৎপাদন খাতে প্রণোদনা বৃদ্ধি করা।



