মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা
--:--
সিডনি
--:--
ব্রেকিং
হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, সারজিস-নাসীরুদ্দীন আহতপশ্চিম সিডনিতে নতুন জাতীয় উদ্যান: সেন্টেনিয়াল পার্কের চেয়ে তিনগুণ বড় এক সবুজ বিপ্লবশাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকরহবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, সারজিস-নাসীরুদ্দীন আহতপশ্চিম সিডনিতে নতুন জাতীয় উদ্যান: সেন্টেনিয়াল পার্কের চেয়ে তিনগুণ বড় এক সবুজ বিপ্লবশাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকর
বিবিধ খবর

তৃণমূল থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ: চক্রান্তের বেড়াজাল ছিন্ন করে রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি আওয়ামী লীগের !

বিশেষ প্রতিবেদক ১ মাস আগে বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৭০ বার পঠিত
পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল মূলত চাকরিতে কোটা সংস্কারের একটি অরাজনৈতিক দাবি। কিন্তু পরবর্তীতে দেশি-বিদেশি গভীর চক্রান্তের ফলে বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের ক্যাডাররা এই আন্দোলনকে সরকার উৎখাতের সহিংস রূপ দেয়।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে শত প্রতিকূলতা ও আইনি নিষেধাজ্ঞার মাঝেও বাংলাদেশের রাজপথে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল, তৃণমূল পর্যায়ে শপথ গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মহলে জোর তৎপরতার মধ্য দিয়ে দলটি আবারও মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূলের সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং নানামুখী চক্রান্তের স্বরূপ উন্মোচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

জুলাইয়ের আন্দোলন ও ‘বিদেশি চক্রান্তের’ ক্ষমতা পরিবর্তন

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল মূলত চাকরিতে কোটা সংস্কারের একটি অরাজনৈতিক দাবি। কিন্তু পরবর্তীতে দেশি-বিদেশি গভীর চক্রান্তের ফলে বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের ক্যাডাররা এই আন্দোলনকে সরকার উৎখাতের সহিংস রূপ দেয়।

বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতির আগেই যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তা এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কিংবা বঙ্গোপসাগরে মার্কিন একাধিপত্য মেনে না নেওয়া এবং কৌশলগত চুক্তিগুলোতে সই না করার কারণেই আমেরিকার সাথে যোগসাজশে ড. ইউনূস চক্র এই পতন ঘটিয়েছে বলে দলটির নেতাকর্মীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর ওপর নির্মম হামলা এবং পরবর্তীতে পুলিশের ক্ষোভ ও বর্তমান সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, এই বিশৃঙ্খলা একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল, যা সাধারণ মানুষ এখন ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছে।

৪০ ভাগ ভোটারকে বাদ দিয়ে গণতন্ত্র ‘আকাশকুসুম কল্পনা’

আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম হয়েছে একটি নতুন দেশের। গত ১৭ বছরে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, তা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি।

দলটি মনে করে, দেশের প্রায় ৪০ ভাগ ভোটার এখনো সরাসরি আওয়ামী লীগের সমর্থক। এই বিশাল জনগোষ্ঠী ও কোটি কোটি ভোটারকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা কিংবা দলটির রাজনৈতিক অধিকার হরণ করার চেষ্টা মূলত দেশের গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণ অর্থহীন করে তুলেছে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা ‘আকাশকুসুম কল্পনা’ ছাড়া আর কিছুই নয়। অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী যেমন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত, তেমনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণ রাজনৈতিক দলগুলোর নতুন নেতারাও জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন, যার ফলে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক বা সমর্থনে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজপথে ঝটিকা মিছিল

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দলের নিবন্ধন স্থগিত করা হলেও, রাজপথ ছাড়েনি দলটির কর্মীরা। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে শপথ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তারা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার শপথ নেন। এই প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম গণমাধ্যমকে বলেন: “বর্তমান সরকার ও এর আগের অন্তর্বর্তী সরকার দলের কার্যক্রমে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তা দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত যাই থাকুক, আমরা আওয়ামী লীগ আমাদের দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি এবং যাব।”

আন্তর্জাতিক চাপ ও মানবাধিকারের লড়াই : অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও দলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হচ্ছে। সম্প্রতি কক্সবাজারের পৌনে দুইশ আইনজীবী জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার এবং সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অবিলম্বে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের অনেক পুরনো রাজনৈতিক দল। তারা সাময়িকভাবে ক্ষমতাচ্যুত হলেও তাদের রাজনীতিতে ফিরে আসার প্রচেষ্টা চালানোটা অত্যন্ত স্বাভাবিক।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: রাজনীতির মাঠে ফেরার নতুন সুযোগ?

এদিকে, ৯ জুন সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, শর্ত সাপেক্ষে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন।

উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, যেহেতু এটি একটি নির্দলীয় নির্বাচন, তাই ব্যক্তি হিসেবে যে কেউ যদি তার প্রয়োজনীয় ক্রাইটেরিয়া বা শর্ত পূরণ করতে পারেন, তবে তার নির্বাচনে অংশ নিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যেহেতু দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাই প্রার্থীরা প্রচারণায় সরাসরি দলের নাম, পদবি বা লোগো ব্যবহার করতে পারবেন না।

যদিও এই স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো বার্তা আসেনি, তবে দলটির একটি বড় অংশ মনে করছে, এই নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে পুনরায় সরাসরি রাজনীতির মাঠে শক্তভাবে পা রাখবে।