মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা
--:--
সিডনি
--:--
ব্রেকিং
হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, সারজিস-নাসীরুদ্দীন আহতপশ্চিম সিডনিতে নতুন জাতীয় উদ্যান: সেন্টেনিয়াল পার্কের চেয়ে তিনগুণ বড় এক সবুজ বিপ্লবশাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকরহবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, সারজিস-নাসীরুদ্দীন আহতপশ্চিম সিডনিতে নতুন জাতীয় উদ্যান: সেন্টেনিয়াল পার্কের চেয়ে তিনগুণ বড় এক সবুজ বিপ্লবশাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকর
বিবিধ খবর

অবসর-ভাবনা খারিজ, ‘দুঃসময়ে’ মানুষের পাশে থাকতে চান হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট ১ মাস আগে শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ১৪৭ বার পঠিত

ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘এইসময়’-কে নয়াদিল্লি থেকে একটি দীর্ঘ একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এই সাক্ষাৎকারে দীঘদিন তার মনের ভিতর জমে থাকা কথাগুলো অকপটে বলে গেছেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এ গণভবন ছেড়ে যাওয়া, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা না-দেওয়ার কারণ, বর্তমান সরকার নিয়ে তার ভাবনা, নিজের ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। তার স্বাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন ভারতীয় সাংবাদিক অনমিত্র চট্টোপাধ্যায় .

সাক্ষাৎকারটি ঢাকা সিডনি ইনসাইডারের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেওয়া হলো—

ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পরে রাজনীতি থেকে অবসরের কথাই একটা সময়ে ভেবেছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এখন সেই ভাবনা খারিজ। দেশের ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে’ সেই চিন্তা সরিয়ে রেখে ‘নিজের দেশের মানুষের পাশে থাকার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বললেন, ‘আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে মানুষের দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। ১৯৮১–তে আমি যখন সব হারিয়ে দেশে ফিরেছিলাম, তখন আওয়ামী লীগের কর্মীরাই ছিলেন আমার পরিবার। আজ সেই নেতা–কর্মীরা নির্যাতিত, আমার দেশের জনগণের জীবন আজ বিপর্যস্ত। আমি কীভাবে তাদের ছেড়ে বিশ্রামে যাই?’

হাসিনার এই ‘বিশ্রামে’ যাওয়ার জল্পনা জোরালো হয়েছিল তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি বক্তব্যের ভিত্তিতে। সেই সূত্রেই তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘আপনি দিল্লি আসার পরে আপনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছিলেন, আপনি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান। আপনি কি এখনও সেই সিদ্ধান্তে অনড়? সে ক্ষেত্রে দল ও দেশের নেতৃত্ব আপনি কার বা কাদের হাতে ছেড়ে যেতে চান?’ বিস্তারিত লিখিত উত্তরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, ‘জয়ের বক্তব্য আমার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষ সারাজীবন একই দায়িত্বে থাকে না। আমিও বহুবার বলেছি, নতুন নেতৃত্ব আসুক, তরুণেরা দায়িত্ব নিক। আওয়ামী লীগের বিগত দুই কাউন্সিলেও আমি নতুন নেতৃত্বের কথা বলেছি। ব্যক্তিগত ভাবে আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই।’

তাহলে এই ভাবনার বদল কেন?

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। গণতন্ত্র আক্রান্ত। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করার আইন করা হয়েছে। আমার নেতাকর্মীরা কারাগারে। অনেকে ঘরছাড়া। সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে রয়েছেন। নিরীহ শিশুরা টিকার অভাবে মারা যাচ্ছে, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে। রাষ্ট্রকে ১৯৭১-এর পথ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমন একটা সময়ে আমি কী ভাবে বলি, আমি বিশ্রামে যাচ্ছি?’ মুজিব–কন্যার সংযোজন, ‘আমি ক্ষমতা চাই না। কিন্তু জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না।’

হাসিনার ঘোষণা, ‘বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তা, তাদের উন্নত জীবনমান ও অর্থনৈতিক মুক্তি, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন, সকলের সমানাধিকার এবং আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আগামী দিনের সাফল্য নিশ্চিত করে, তার পরেই আমি অবসর নেব।’ পরবর্তী নেতৃত্ব সেক্ষেত্রে কার হাতে যাবে? হাসিনার জবাব, ‘নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, সেটি কোনও ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার নয়। আওয়ামী লীগের কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়, একটি গণতান্ত্রিক দল। কাউন্সিল (সম্মেলন)-এর মাধ্যমে, কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে, যোগ্যতা, ত্যাগ, সাহস ও আদর্শিক দৃঢ়তার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।’

আওয়ামী লীগের সভানেত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের পদাধিকারীদের পরিবর্তন করে নতুনদের দায়িত্ব বণ্টনের কথা দলের অনেকে বলছেন। অসুস্থ ও অশক্ত নেতাদের সরিয়ে তরুণদের নেতৃত্বে দলকে সংগঠিত করার কোনও পরিকল্পনা কি আপনি রূপায়ণ করতে চলেছেন? সেটা কেমন হতে পারে?’ শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দলীয় পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও অপরিহার্য প্রক্রিয়া। আমরা এই মুহূর্তে একটা প্রাকৃতিক শুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যারা আদর্শের জন্য এই দলে ছিলেন, তারা আজকের দুর্দিনে আরও দৃঢ় ভাবে দলের পাশে আছেন। আর যারা ব্যক্তিগত সুবিধা ও ক্ষমতার আশায় ছিলেন, তারা ইতিমধ্যে ভোল পাল্টে ফেলেছেন বা চুপ করে গিয়েছেন। এটা দলকে দুর্বল করেনি, বরং খাঁটি করেছে।’ তার ব্যাখ্যা, ‘নেতৃত্ব কোনও অলঙ্কার নয়। নেতৃত্ব একটি পবিত্র দায়িত্ব। যারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, যারা কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন না, যারা কঠিন সময়ে সংগঠনকে ধরে রাখতে পারবেন না, তাদের বিষয়ে দলীয় কাঠামোর মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আবার এটাও মনে রাখতে হবে, আমাদের অনেক প্রবীণ নেতা সারা জীবন দলকে দিয়েছেন, জেল খেটেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন। তাদের অবদান কখনও অস্বীকার করা যাবে না। তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের সম্পদ।’

আপাতত নেতৃত্বে বড়সড় বদলের সম্ভাবনা নেই ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে নতুন কাউন্সিল (সম্মেলন)-এর মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করা হবে। নতুন প্রজন্মের মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে। সেই পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে।’ তার কথায়, ‘তরুণ নেতৃত্বের বিষয়ে আমি সর্বদাই উৎসাহী। আমাদের অনেক তরুণ নেতারা আজ নিজ নিজ অবস্থান থেকে, রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন মোকাবিলা করে দৃঢ়তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের পতাকা ধরে রেখেছেন। এরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।’

শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, মাথা উঁচু করে খুব দ্রুত আপনি বাংলাদেশের মাটিতে ফিরবেন। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আপনার ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীদের প্রত্যাবর্তন ও রাজনীতি শুরু করাটা কতটা বাস্তবসম্মত?’ জবাবে হাসিনা বলেছেন, ‘পাকিস্তানি শাসকরা পারেনি, সামরিক শাসকেরা পারেনি, খুনিরা পারেনি, ষড়যন্ত্রকারীরা পারেনি, আজকের বিএনপি সরকারও আওয়ামী লীগের মুছে ফেলতে পারবে না। আমার প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত বিষয় তো নয়। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সঙ্গে যুক্ত।’ তার সংযোজন, ‘জনগণ বুঝতে পেরেছেন আওয়ামী লীগে তাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। এই জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই আমি ফিরব। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে ফিরব, দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরব।’

টুঙ্গিপাড়ায় যেতে চেয়েছিলাম, ইস্তফার সময়ই পাইনি

প্রাণ বাঁচাতে আধ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তুত হয়ে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাড়ি ‘গণভবন’ (Ganabhaban) ছাড়তে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। সে জন্য পদত্যাগ ( Sheikh Hasina resignation) করারসুযোগ তিনি পাননি। তিনি যে দেশ ছাড়বেন, সেটাও ঠিক হয়েছিল একেবারে শেষ মুহূর্তে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘এই সময়’-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে ( Exclusive Interview) বলেছেন, ‘আমি টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাব বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমি জানতামই না, দেশের বাইরে যাচ্ছি।’ তার কথায়, ‘আমাকে পদত্যাগ করার সময় দেওয়া হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী স্বহস্তে লিখিত পদত্যাগপত্র সশরীরে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সামনে উপস্থিত থেকে তার হাতে তুলে দেওয়াটাই নিয়ম। কিন্তু সে সুযোগ আমি পাইনি।… গণভবন আক্রমণ করতে এলে আমার হাতে সাকুল্যে ৩০-৪০ মিনিট সময় ছিল।’

ঢাকার একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও বিশিষ্ট এক সাংবাদিক সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন (Sheikh Hasina latest statement) , ২০২৪-এর ৫ অগস্ট আন্দোলনকারীরা (Bangladesh protest 202) গণভবন ঘিরে ফেললে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে তিন পাতার একটি পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন। সেই চিঠি তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক কর্মীকে দিয়ে টাইপ করাতে চেয়েছিলেন। ওই সাংবাদিকের দাবি, তড়িঘড়ি দেশ ছাড়তে হওয়ায় তিন পাতার সেই পদত্যাগপত্র তিনি নিজের ভ্যানিটি ব্যাগে পুরে নিয়ে চলে যান। শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘সম্প্রতি একটি সংবাদপত্রের সম্পাদকের একটি দাবি ঘিরে আপনার পদত্যাগের বিষয়টি ফের সামনে এসেছে। আপনি কি আদৌ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেবের হাতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন? অথবা তিন পাতার একটি পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন, যা পরে আর স্বাক্ষর করে জমা দেননি?’

এই প্রশ্নের উত্তরে মুজিব–কন্যা বলেছেন, ‘আমাকে দেশ ছেড়ে চলে আসতে হবে, এটা আমি কোনও দিনই ভাবতে পারিনি। আমি দেশের মানুষের আর্থ–সামাজিক উন্নয়নের জন্য, তাদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। তাদের লাশ বানিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চিন্তা আমার কখনওই ছিল না।’ হাসিনার সংযোজন, ‘৫ অগস্ট (২০২৪) কোনও স্বাভাবিক দিন ছিল না। সে দিন বাংলাদেশকে একটি ভয়াবহ সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল (Bangladesh Politics)। গণভবনের দিকে উন্মত্ত জনতা অগ্রসর হচ্ছিল। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। পুলিশ, প্রশাসন, নিরাপত্তা কাঠামো-সহ সব জায়গায় চাপ, বিভ্রান্তি এবং পরিকল্পিত অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছিল।’ হাসিনার দাবি, বোন রেহানা এবং তাকে হত্যার জন্যই আন্দোলনকারীরা গণভবনে আক্রমণ করেছিল। তার কথায়, ‘আমার নিরাপত্তা নিয়ে সকলে খুব উদ্বিগ্ন ছিল। আন্দোলনকারীরা রেহানা এবং আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্য নিয়েই গণভবন আক্রমণ করতে এসেছিল। তাদের অনেকের বক্তব্যেই এটি উঠে এসেছে যে ‘লাশ ফেললে সরকার পড়ে যাবে’। ভুয়ো আইডি কার্ড বানিয়ে গণভবনে লোক নিয়ে আসা হয়েছিল, এই কথা (আন্দোলনের) সমন্বয়করাই স্বীকার করেছে।’ হাসিনা বুঝিয়েছেন, সেই অল্প সময়ে (৩০-৪০ মিনিট) বসে বসে পদত্যাগপত্র লেখার সময়ও তার ছিল না।

হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘জুলাই-আন্দোলন মোকাবিলায় প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আপনাকে নির্দেশদাতা হিসাবে অভিযুক্ত করে দণ্ড দিয়েছে। সম্প্রতি আপনি রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে আইনজীবীর চিঠি পাঠিয়ে তাদের রিপোর্টে দেওয়া প্রাণহানির তথ্য সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশে ‘রেজিম চেঞ্জ’ পরিকল্পনায় রাষ্ট্রপুঞ্জের এই শাখা সংস্থাটিও যুক্ত বলে কি আপনি মনে করেন?’

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর জবাব, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আইসিটি (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) গঠন করা হয়েছিল। অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার বেআইনি ভাবে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আমাকে যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে, সেটি কোনও বিচার নয়, এটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ মাত্র।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪–এর জুলাই-আগস্টে যে আন্দোলন হয়েছিল সেটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। কোটা পরিবর্তনের দাবির আড়ালে এটি ছিল একটি সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলন, যাতে দেশি ও বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জড়িত ছিল। অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতা দখল করা (মুহাম্মদ) ইউনূস নিজেই এই আন্দোলনকে ‘মেটিকুলাসলি ডিজ়াইনড’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই ষড়যন্ত্রকে সফল করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরাই হত্যাকাণ্ডের পথ বেছে নিয়েছিল।’ তার সংযোজন, ‘এই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্ররা প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বলেছে, আন্দোলন সফল করার জন্য তারা পুলিশ হত্যা করেছে, মেট্রোরেলে আগুন দিয়েছে। আন্দোলন সফল না হলে সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিকল্পনার কথাও তারা স্বীকার করেছে।’

প্রাণদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, ‘কোন মৃত্যুই কাম্য নয়। প্রথম হতাহতের ঘটনার পরেই তাই আমি সঠিক ভাবে তদন্ত করার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। কিন্তু দেশবিরোধী গোষ্ঠী ক্ষমতা দখল করে সেই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে। এমনকী, নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত পর্যন্ত করতে দেয়নি।’ তার প্রশ্ন, ‘কী ভয় ছিল তাদের? কেন আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে?’

রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার শাখা (ওএইচসিএইচআর)-র রিপোর্ট প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ‘তারা এই তদন্ত করেছিল ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে। যারা চক্রান্ত করে অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করল, তাদের আমন্ত্রণে পরিচালিত তদন্ত কীভাবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে পারে? এই প্রতিবেদনে জুলাই-অগস্টে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু এর সপক্ষে কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি। খোদ অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৮৩৪। এমনকি গেজেটেও নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য মিথ্যা নাম সংযোজন করা হয়েছে।’ হাসিনা বলেন, ‘ওএইচসিএইচআর-এর কমিশনার ভলকার টুর্ক ২০২৫–এর মার্চে বিবিসি-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন— তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, আন্দোলন দমনে কঠোর হলে শান্তিরক্ষী মিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এটি দৃশ্যতই একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল, যা রাষ্ট্রপুঞ্জের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।’ তার কথায়, ‘এটা পরিষ্কার, জুলাই-অগস্টের ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলন চলার সময়ে এবং প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশন নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’