মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা
--:--
সিডনি
--:--
ব্রেকিং
হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, সারজিস-নাসীরুদ্দীন আহতপশ্চিম সিডনিতে নতুন জাতীয় উদ্যান: সেন্টেনিয়াল পার্কের চেয়ে তিনগুণ বড় এক সবুজ বিপ্লবশাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকরহবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, সারজিস-নাসীরুদ্দীন আহতপশ্চিম সিডনিতে নতুন জাতীয় উদ্যান: সেন্টেনিয়াল পার্কের চেয়ে তিনগুণ বড় এক সবুজ বিপ্লবশাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকর
রাজনীতি

আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের ইতিহাস: প্রতিষ্ঠা, আন্দোলন ও রাজনৈতিক পথচলা

বিশেষ প্রতিবেদক ১ মাস আগে মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ১১৭ বার পঠিত

২৩ জুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরনো ঢাকার কেএম দাস লেনের ঐতিহাসিক ‘রোজ গার্ডেন’-এ জন্ম নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন, বৈষম্য ও ঔপনিবেশিক মানসিকতার বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে এই দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস, স্বাধিকার আন্দোলন এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রতিটি অধ্যায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বাঙালি জাতি দ্রুতই অনুধাবন করে যে, ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটলেও তাদের প্রকৃত মুক্তি আসেনি। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল মুসলিম লীগের ভেতরে পকেট কমিটি গঠন এবং প্রগতিশীল নেতাদের কোণঠাসা করার প্রতিক্রিয়ায় প্রগতিশীল ও গণমুখী ধারার একদল নেতা নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।

 ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক এবং কারাবন্দী শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়। প্রখ্যাত নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এই প্রক্রিয়ায় অন্যতম প্রধান প্রেরণাদাতা হিসেবে কাজ করেন।  দলটিকে আরও গণমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অসাম্প্রদায়িক করতে ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করা হয়। এর ফলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির জন্য এই দলের দুয়ার উন্মুক্ত হয়।

নেতৃত্বের অবদান: সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু

আওয়ামী লীগকে একটি সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করার পেছনে তিন মহান নেতার অবদান অনস্বীকার্য: দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরেন। তার আপসহীন নেতৃত্ব দলটিকে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রাখে।

গণতন্ত্রের মানসপুত্র সোহরাওয়ার্দী ছিলেন দলটির প্রধান পথপ্রদর্শক। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ের নেপথ্যে এবং পাকিস্তানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তার অবদান ছিল অপরিসীম।

 শামসুল হকের অসুস্থতার পর তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল অসাধারণ। ১৯৬৬ সালে তার ঘোষিত ছয় দফা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ (ম্যাগনা কার্টা)। তার দূরদর্শী ও মহাকাব্যিক নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠে বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার মুখপাত্র। ১৯৭১ সালে তারই আহ্বানে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

নির্বাচনে জয়-পরাজয় ও দীর্ঘ শাসনের ইতিহাস

১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: মুসলিম লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় অর্জন করে এবং পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটায়।

১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন: বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৬৭টি আসন) লাভ করে। এই বিজয়ই বাংলাদেশের স্বাধীনতার আইনি ও নৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছিল।

স্বাধীনতার পর শাসনভার (১৯৭২-১৯৭৫): স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন ও একটি আধুনিক সংবিধান উপহার দেওয়ার দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর দেশ দীর্ঘ সামরিক স্বৈরশাসনের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।

১৯৯৬ সালের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ ২১ বছর পর, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করে এবং দেশে গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার নতুন সূচনা করে।

২০০১ সালের নির্বাচন ও বিরোধী দল: ২০০১ সালের নির্বাচনে নানা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মুখে দলটির পরাজয় ঘটে এবং দীর্ঘ সময় রাজপথে কঠিন আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হয়।

২০০৮ থেকে ২০২৪: দীর্ঘ শাসন ও উন্নয়ন: ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ টানা দেড় দশকেরও বেশি সময় দেশ শাসন করে। এই দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশ এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়, পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় এবং অর্থনৈতিক সূচকে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলটিকে বর্তমানে এক নতুন সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস। ভাষা আন্দোলন, ৫৪-র যুক্তফ্রন্ট, ৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান, ৭০-র নির্বাচন এবং ৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবখানেই নেতৃত্ব দিয়েছে এই দল। প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বছরে এসে দলটির সামনে যেমন রয়েছে অতীত গৌরবের ঐতিহ্য, তেমনই রয়েছে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ

দিনটি উপলক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক বানী দিয়েছেন।