শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে সাদা জার্সিধারীদের উল্লাসে কেঁপে উঠল ডালাস স্টেডিয়াম। কেউ হাঁটু গেড়ে বসে আনন্দে কাঁদছেন, কেউ দুই হাত আকাশের দিকে তুলে উদযাপন করছেন। আর অন্য পাশে নীরবতা—হতাশায় মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়ছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তাঁর সতীর্থরা। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মহারণে স্পেন ২-০ গোলে হারিয়ে দিল ফ্রান্সকে। সেই সঙ্গে ইতিহাসের আরেকটি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল ‘লা রোহা’।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন যেন বুঝিয়ে দিচ্ছিল, আজকের রাতটা তাদেরই। দ্রুতগতির পাস, নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ আর ধারালো আক্রমণে বারবার কাঁপতে থাকে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় জাল খুঁজে নিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। গ্যালারিতে তখন শুধুই স্পেন সমর্থকদের উল্লাস।
গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালায় ফ্রান্স। এমবাপ্পে একের পর এক দৌড়ে স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে চাইলেও প্রতিবারই ব্যর্থ হন। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ও মাঝমাঠের দারুণ নিয়ন্ত্রণ ফ্রান্সকে কোনো সুযোগই দেয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে আসে শেষ আঘাত। দারুণ এক আক্রমণ থেকে পেদ্রো পরো বল জালে জড়িয়ে দিলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন। সেই গোলের পর যেন নিভে যায় ফ্রান্সের সব আশা। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন। খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে স্বপ্ন—আর মাত্র একটি জয়, তাহলেই বিশ্বকাপ ট্রফি। অন্যদিকে এমবাপ্পেদের জন্য এই হার এক গভীর হতাশার গল্প হয়ে রইল। শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে এখন তাদের লক্ষ্য তৃতীয় স্থান অর্জন।
এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ স্পেনের দিকে। ফাইনালে কি তারা বিশ্বকাপ জয়ের মুকুট পরবে? নাকি শেষ লড়াইয়ে অপেক্ষা করছে নতুন কোনো নাটক? সেই উত্তর মিলবে মহারণের শেষ রাতে।
রাজকীয় দাপট দেখিয়ে এমবাপ্পেদের স্বপ্ন ভেঙে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন



