শত প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা এবং তাদের বংশধররা অবিশ্বাস্য শক্তি ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। তারা তাদের গল্প ও সত্যগুলো সবার সামনে তুলে ধরছেন, যা এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছে। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার এই ব্যবধান দূর করতে আদিবাসী সংগঠন, সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পদযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আদিবাসী ভাষা কর্মশালা, বিশেষ প্রদর্শনী, নান্দনিক পরিবেশনা এবং সামাজিক সমাবেশের মাধ্যমে পুরো সপ্তাহটি উদযাপিত হবে।

২৭ মে থেকে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয়েছে ‘জাতীয় পুনর্মিলন সপ্তাহ’ এবং‘জাতীয় ক্ষমা দিবস’ এর অনুষ্ঠানমালা। এই দিনে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হচ্ছে আদিবাসী এবং টরেস প্রণালী দ্বীপপুঞ্জের সেইসব শিশুদের, যাদের একসময় তাদের পরিবার, সংস্কৃতি ও মাতৃভূমি থেকে জোরপূর্বক বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এই অমানবিক অধ্যায় যে দীর্ঘস্থায়ী  ট্রমা ও প্রভাব রেখে গেছে, তা আজ বিনম্র চিত্তে স্বীকার করা হচ্ছে। তবে এই বেদনার মাঝেও দীপ্তি ছড়াচ্ছে এক অনন্য মানবিক গল্প। শত প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা এবং তাদের বংশধররা অবিশ্বাস্য শক্তি ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। তারা তাদের গল্প ও সত্যগুলো সবার সামনে তুলে ধরছেন, যা এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছে। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার এই ব্যবধান দূর করতে আদিবাসী সংগঠন, সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এবারের মূল লক্ষ্যই হলো যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

ঐতিহাসিক এক সেতু, ২৭ মে থেকে জুন : ‘জাতীয় পুনর্মিলন সপ্তাহ’ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আদিবাসী ও টরেস প্রণালী দ্বীপবাসী এবং অ-আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ জোরদার করার একটি দার“ণ সুযোগ। ২৭ মে: ১৯৬৭ সালের সফল ঐতিহাসিক গণভোটের বার্ষিকী, যা আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকারের পথ সুগম করেছিল। ৩ জুন ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক হাইকোর্টের ‘মাবো রায়’-এর বার্ষিকী, যা আদিবাসীদের জমির মালিকানা বা ভূমি স্বত্বকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছিল।

এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সর্বাত্মক অংশগ্রহণ’: এই বছরের পুনর্মিলন সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘সর্বাত্মক অংশগ্রহণ’। এটি প্রতিটি অস্ট্রেলীয় নাগরিকের প্রতি একটি জোরালো আহ্বান হচ্ছে- পুনর্মিলনের এই যাত্রায় যেন সবাই মন থেকে অঙ্গীকারবদ্ধ হন। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনের জন্য নয়, বরং বছরের প্রতিটি দিনের অভ্যাস হওয়া উচিত। “যখন ‘ক্লোজিং দ্য গ্যাপ’ (ব্যবধান নিরসন) সমাধানগুলো সরকারের একক সিদ্ধান্তে  না হয়ে, আদিবাসী জনগণ ও সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিকল্পিত, পরিচালিত এবং বাস্তবায়িত হয়, তখন আমরা সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাই।”

রাজ্যজুড়ে আয়োজনের মহাসমারোহ : জাতীয় পুনর্মিলন সপ্তাহ উপলক্ষে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ণিল সব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পদযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আদিবাসী ভাষা কর্মশালা, বিশেষ প্রদর্শনী, নান্দনিক পরিবেশনা এবং সামাজিক সমাবেশের মাধ্যমে পুরো সপ্তাহটি উদযাপিত হবে। অংশগ্রহণের জন্য রয়েছে কয়েক ডজন অনুষ্ঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *