পুরো নাটকটির গল্প মূলত এই দম্পতির অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া কন্যা সোনালের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেখানে শেঠ পরিবারের তিন প্রজন্মের নারী সোনাল, রাধিকা এবং ইভান জেলিনের অভিজ্ঞতা, মানসিক টানাপোড়েন এবং সামাজিক অভিযোজনের চিত্র উঠে এসেছে।

সিডনি: অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের শুরুর দিনগুলোর সংগ্রাম, সামাজিক পরিবর্তন এবং পারিবারিক বন্ধনের এক জীবন্ত দলিল নিয়ে সিডনির মঞ্চে হাজির হয়েছে নাটক ‘টেন ইয়ার্স টু হোম। বিশিষ্ট লেখিকা সোনাল মুর-এর রচনা ও অর্ধ-আত্মজীবনীমূলক এই নাটকটি ২০২৬ সালের পারফরম্যান্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ক্যাম্পবেলটাউন আর্টস সেন্টারে মঞ্চস্থ হচ্ছে। নাটকটির প্রদর্শনী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে, যা ৫ ও ৬ জুন (শুক্র ও শনিবার) প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে।

বাস্তব জীবনের গল্পে সাজানো পটভূমি: নাটকটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ১৯৫৯ সালে ভারতের মুম্বাই থেকে মেলবোর্নে পাড়ি জমানো এক দম্পতি ঋষিকেশ (ঋষি) এবং বসন্ত শেঠের বাস্তব জীবনের সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে। শুরুতে ঋষির কর্মক্ষেত্রের বদলিজনিত কারণে মাত্র ৪ বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় থাকার পরিকল্পনা থাকলেও, পরিস্থিতির টানে বারবার তাদের অবস্থানের মেয়াদ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেই সাময়িক প্রবাস জীবনই পরিণত হয় তাদের স্থায়ী ঠিকানায়।

পুরো নাটকটির গল্প মূলত এই দম্পতির অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া কন্যা সোনালের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেখানে শেঠ পরিবারের তিন প্রজন্মের নারী সোনাল, রাধিকা এবং ইভান জেলিনের অভিজ্ঞতা, মানসিক টানাপোড়েন এবং সামাজিক অভিযোজনের চিত্র উঠে এসেছে।

সত্তরের দশকের প্রেক্ষাপট ও সামাজিক রূপান্তর: নাটকটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ১৯৭০-এর দশকের অস্ট্রেলিয়ার বর্ণিল সামাজিক প্রেক্ষাপট। তৎকালীন প্রধানত “শ্বেতাঙ্গ অস্ট্রেলিয়া” নীতির মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সেই ব্যবস্থার বিলুপ্তি ও বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক রূপান্তকে সোনালের শৈশবের মধ্য দিয়ে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

নেপথ্যে যারা আছেন: উচ্চ প্রশংসিত এই নাটকটি মূলত ‘নৌটঙ্কী থিয়েটার-এর একটি পরিবেশনা। ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘ক্যাম্পবেলটাউন আর্টস সেন্টার-এর ব্যবস্থাপনায় নাটকটি মঞ্চায়নে সহযোগিতা করছে নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের শিল্প বিষয়ক সংস্থা ‘ক্রিয়েট এনএসডব্লিউ । এছাড়াও প্রযোজনাটিতে অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছে নামী সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘নীলসন ফাউন্ডেশন এবং ‘প্যাকার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন’।

বৃহস্পতিবার প্রথম প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিরাজুল হক, কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমানসহ সিডনির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *