অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন পদক্ষেপে চাপে পড়লো হিজবুত তাহরীর

সদস্য হলে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ; অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইও (ASIO) দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্যানবেরা, অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে উগ্রপন্থী ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন ‘হিজবুত তাহরীর’কে একটি ‘নিষিদ্ধ ঘৃণ্য গোষ্ঠী’ (Prohibited Hate Group) হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারের নতুন ‘ঘৃণা ও চরমপন্থা বিরোধী’ আইনের আওতায় এটিই প্রথম কোনো সংগঠন যাকে নিষিদ্ধ করা হলো।

মূল তথ্যসমূহ:

  • কার্যকারিতা: গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ ২০২৬) অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন এই নিষেধাজ্ঞায় অনুমোদন দেন এবং শুক্রবার থেকে এটি কার্যকর হয়।
  • শাস্তি: নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে হিজবুত তাহরীরের সদস্য হওয়া, দলটির জন্য লোক সংগ্রহ করা, অর্থায়ন করা বা প্রশিক্ষণ দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা ১৫ বছরের কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • সরকারের বক্তব্য: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে হিজবুত তাহরীর সমাজে ঘৃণা ছড়িয়ে আসছিল যা সহিংসতার পথ তৈরি করতে পারে। দেশের সামাজিক সংহতি এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইও (ASIO) দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হিজবুত তাহরীর বিভিন্ন সময় ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য দিয়েছে এবং চরমপন্থাকে উসকে দেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলাকে প্রশংসা করা এবং ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগ দলটির বিরুদ্ধে জোরালো ছিল।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:

উল্লেখ্য যে, হিজবুত তাহরীর একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন যা বিশ্বজুড়ে ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার ডাক দেয়। অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও বাংলাদেশ, ব্রিটেন, জার্মানি, মিশর, পাকিস্তান এবং ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশে এই সংগঠনটি ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ।

জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া:

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশটির অনেক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার কর্মী স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড রোধে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। তবে দলটির সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে ‘বাক-স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দাবি করেছে।