এনসিপি নেত্রী নুসরাত

নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কারণে এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপ্রত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে, দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়ন নিয়েও তৈরি হয়েছে তীব্র আইনি জটিলতা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে ১৯ মিনিট পর অর্থাৎ বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী সময়ের পরে জমা হওয়ায় কমিশন তার আবেদনটি সরাসরি বাতিল করেছে।

অন্যদিকে, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়ন জমা পড়লেও তা বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে। তার প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংক্রান্ত অযোগ্যতার প্রশ্ন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(১)(চ) ধারা অনুযায়ী, সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর নেওয়ার তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন না। তথ্যমতে, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অফিসার হিসেবে যোগ দিয়ে গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। অর্থাৎ, চাকরি ছাড়ার পর তার মাত্র চার মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, যা আরপিওর শর্ত অনুযায়ী অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে ১১-দলীয় জোটের মোট ১৩টি মনোনয়নের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ১২টি গৃহীত হয়েছে। মনিরা শারমিনের নথিপত্রে ঘাটতি থাকায় এবং আইনি জটিলতা নিরসনে নির্বাচন কমিশন তাকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিলের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি যদি আরপিও সংক্রান্ত জটিলতা বা তার যোগ্যতার স্বপক্ষে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারেন, তবে সংরক্ষিত নারী আসনের এই নির্বাচনে এনসিপির প্রতিনিধিত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সংকটে পড়তে পারে দলটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *