সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশে সম্ভাব্য টিকা ঘাটতি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত ৫ বার লিখিত চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সরকারের নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তাদের সাথে ১০টি পৃথক বৈঠকেও এই আশঙ্কার কথা বারবার তুলে ধরা হয়। ঢাকা : বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হামের টিকা সংকটের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত পরিবর্তন ও সিদ্ধান্তহীনতাকে সরাসরি দায়ী করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ । সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশে সম্ভাব্য টিকা ঘাটতি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত ৫ বার লিখিত চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সরকারের নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তাদের সাথে ১০টি পৃথক বৈঠকেও এই আশঙ্কার কথা বারবার তুলে ধরা হয়। বুধবার বিকেলে ঢাকায় ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ (প্রতিনিধি) রানা ফ্লাওয়ার্স এই বিস্ফোরক তথ্য জানান। কেন এই আকস্মিক সংকট? ইউনিসেফের ব্যাখ্যা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে রানা ফ্লাওয়ার্স বাংলাদেশে হামের টিকা সংকটের মূল কারণগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ভ্যাকসিনের প্রকিউরমেন্ট বা ক্রয় প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনে। এই নতুন নিয়ম ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই মূলত দেশে যথাসময়ে টিকার চালান এসে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে, যা পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ে তীব্র সংকট তৈরি করে। টিকা সংকটের কারণে শিশুদের আক্রান্ত হওয়া এবং প্রাণহানির ঘটনাকে অত্যন্ত ‘মর্মান্তিক ও দুঃখজনক’ বলে আখ্যায়িত করেন ইউনিসেফ প্রতিনিধি। “ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে” হামের টিকা সংকট এবং এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রানা ফ্লাওয়ার্স। সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল—এই সরকারি তদন্তে ইউনিসেফ কোনো সহায়তা করবে কি না? জবাবে দৃঢ়তার সাথে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়। এই সংকটের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে যেকোনো তদন্তে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত । Post navigation অস্ট্রেলিয়ার সব ভিসার আবেদন এখন থেকে ইমি একাউন্টে জমা দিতে হবে লাশের স্তূপে থেমে যায় ভদ্রা নদীর স্রোত: চুকনগর গণহত্যার কান্নার গল্প