মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা
--:--
সিডনি
--:--
ব্রেকিং
শাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকরপাঠ্যবইয়ে থাকছে না ওসমান হাদির বীরত্বগাথাএবিএম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলশাপলা চত্বর ঘটনা: শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনআইসিসির পরোয়ানা তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু; ট্রাম্পের সাথে রেকর্ড বৈঠকবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, তালিকায় আছে কোন কোন দেশ  পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি: ‘প্রশ্নটা বিব্রতকরপাঠ্যবইয়ে থাকছে না ওসমান হাদির বীরত্বগাথাএবিএম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল
খেলা

১৬ বছর পর স্পেনের বিশ্বজয়, মেসির শেষ স্বপ্ন ভাঙল অতিরিক্ত সময়ে

স্পোর্টস রিপোর্টার ১ সপ্তাহ আগে রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ ২৭১ বার পঠিত

শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠজুড়ে লাল-হলুদের উল্লাস। হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন কেউ, কেউ দুই হাত আকাশের দিকে তুলে ছুটলেন সতীর্থদের দিকে। আর ঠিক উল্টো প্রান্তে নীল-সাদা জার্সিধারীদের মুখে গভীর নীরবতা। কেউ ঘাসে বসে পড়েছেন, কেউ দূরে তাকিয়ে স্থির। লিওনেল মেসি ধীরে ধীরে হাঁটছেন মাঝমাঠের দিকে। মুখে হতাশার ছাপ, চোখে অপূর্ণতার ভার। ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মঞ্চে আরেকটি রূপকথা লেখা হলো ঠিকই, কিন্তু সেটি আর্জেন্টিনার নয়—স্পেনের।

অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো ইউরোপের এই দল। নতুন প্রজন্মের স্পেন দেখিয়ে দিল, আধুনিক ফুটবলে গতি, শক্তি ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে কীভাবে বিশ্বজয় করা যায়।

ফাইনালের শুরু থেকেই দুই দলের লড়াই ছিল কৌশল আর ধৈর্যের। আর্জেন্টিনা স্বভাবসুলভভাবে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও স্পেনের মাঝমাঠের চাপ তাদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পেতে দেয়নি। একের পর এক প্রেসিং, দ্রুত বল আদান-প্রদান এবং উইং দিয়ে আক্রমণ সাজিয়ে স্পেন বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণকে পরীক্ষায় ফেলে।

প্রথমার্ধে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা মেলেনি। আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসিকে ঘিরে ছিল স্পেনের বিশেষ পরিকল্পনা। বল পেলেই দুই বা তিনজন খেলোয়াড় তাকে ঘিরে ফেলছিলেন। ফলে নিজের স্বাভাবিক জাদু দেখানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা বা সময় খুব কমই পেয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। কখনো স্পেন, কখনো আর্জেন্টিনা—দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে দুই গোলরক্ষকের দৃঢ়তা এবং রক্ষণভাগের শৃঙ্খলায় স্কোরলাইন বদলায়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

অতিরিক্ত সময় শুরুর পরও লড়াই ছিল সমানে সমান। কিন্তু ১০৬ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত, যা বদলে দেয় পুরো ম্যাচের গল্প। আক্রমণভাগে দ্রুত পাসের সমন্বয় থেকে বল পৌঁছে যায় বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেসের কাছে। সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি। জোরালো শটে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে স্পেনকে এনে দেন কাঙ্ক্ষিত গোল। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ সমর্থকেরা।

গোল হজম করার পর মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। শেষ সময়ে একের পর এক আক্রমণ চালালেও স্পেনের রক্ষণ ছিল অটুট। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে যখন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় স্পেনের উৎসব। খেলোয়াড়েরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেন, গ্যালারিতে লাল-হলুদের ঢেউ। বহু বছর ধরে তৈরি হওয়া নতুন প্রজন্মের দলটি শেষ পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখল।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার জন্য এটি ছিল হৃদয়ভাঙার এক রাত। মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ বলে যে প্রত্যাশা ছিল, তার পরিণতি হলো বেদনায়। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর আরেকটি ট্রফি হাতে নিয়ে বিদায় বলার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হলো না। ম্যাচজুড়ে তার প্রতিভার ঝলক দেখা গেলেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ এবং মাঝমাঠের আধিপত্য সেই জাদুকে কার্যকর হতে দেয়নি।

এই ফাইনাল শুধু একটি শিরোপা নির্ধারণ করেনি; এটি ছিল দুই প্রজন্ম, দুই দর্শন এবং দুই ফুটবল সংস্কৃতির লড়াই। একদিকে অভিজ্ঞতা আর কিংবদন্তির শেষ অধ্যায়, অন্যদিকে তরুণদের ক্ষুধা ও নতুন যুগের সূচনা। শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে নতুন শক্তির।

বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে আবারও বসেছে স্পেন। আর আর্জেন্টিনার জন্য রয়ে গেল অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস—যে দীর্ঘশ্বাসের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছেন ফুটবলের এক অমর কিংবদন্তি, লিওনেল মেসি। পুরস্কার বিতরনীর পর ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে তার চোখ থেকে যে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল সেই পানির ফোটাকে মনে হচ্ছিল গোটা আর্জেন্টিনাবাসীরই চোখের পানি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *