ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন তাঁকে লক্ষ্য করে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় তাঁর হাত থেকে মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া এবং কানের পাশে আঘাত করার অভিযোগও করেছেন তিনি। ঘটনার পর স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী।
বাঁধনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, তাঁকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বলা হয়। সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশের চেষ্টা করা হয় বলেও জানান তিনি।
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে ভাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বিস্তারিত জানান বাঁধন। পরে হামলা ও হেনস্তার কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।
প্রকাশিত ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনের দিকে তেড়ে যেতে, তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে এবং উত্তেজিতভাবে কথা বলতে দেখা যায়। তাঁদের কয়েকজনকে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলতেও শোনা যায়।
ফেসবুক লাইভে বাঁধন বলেন, তিনি ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন বাঙালি এসে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং তাঁর শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছুড়ে মারেন।
তিনি জানান, তাঁর ওপর হাত তোলা হয়েছে, ফোন ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং কানের পাশেও আঘাত করা হয়েছে। তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় বাঁধনের ভাইয়ের শিশুসন্তানও তাঁদের সঙ্গে ছিল। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শিশুটির কথা উল্লেখ করে হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করতে শোনা যায়। জবাবে একজনকে ‘জয় বাংলা’ বলার কথা বলতে শোনা যায়।
বাঁধনের ভাইয়ের শিশুসন্তানকে ঘিরে ওই ঘটনার অংশটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে উত্তেজিতভাবে কথা বলতে এবং তাঁকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে আখ্যা দিতে শোনা যায়।
বাঁধন বলেন, তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁকে দমানো সহজ হবে না।
ভিডিও বার্তায় তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথাও উল্লেখ করেন। জয় ভেনিসে অবস্থান করছেন বলে তিনি জেনেছেন এবং তাঁর কাছে ঘটনাটি পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানান অভিনেত্রী।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বাঁধন। আন্দোলনের পক্ষে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও কথা বলেছিলেন তিনি।
নেটিজেনরা কেন বাঁধনের বিপক্ষে
ইতালিতে বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও তাঁর নিজের ফেসবুক পোস্ট এবং এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়াই তুলনামূলকভাবে বেশি চোখে পড়ছে। তাঁর পোস্টে ‘হাহা’ রিঅ্যাকশনের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নেতিবাচক মন্তব্য দেখা গেছে।
একই প্রবণতা দেখা গেছে বাংলাদেশের প্রায় সকল গণমাধ্যমের এ বিষয়ে দেয়া ফেসবুক পোস্ট এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং রাজনৈতিক নেতা সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও। তাদের লাখ লাখ সমমনা ফলোয়ার রয়েছে, কমেন্টগুলো তাই বাধনের পক্ষেই হওয়ার কথা ছিল। সেখানে হাজার হাজার মন্তব্যের বৃহত্তম অংশ বাঁধনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
নেটিজেনদের একটি অংশের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ বা ‘আওয়ামী ট্যাগ’ দিয়ে কয়েকজন নারীকে প্রকাশ্যে শারিরীক হেনস্তা ও হামলার ঘটনায় যথাযথ বিচার হয়নি—এমন একটি ধারণা থেকেই বাঁধনকে ঘিরে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ অতীতের এসব ঘটনার বিচার না হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান ঘটনাকে ব্যাখ্যা করছেন।



