মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
অর্থনীতি

আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরীর মৎস্য খাত বিপর্যয়ের মুখে

dsinsider ৩ মাস আগে মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৪১৩৩ বার পঠিত

মোহাম্মদ উল্লাহ, চকরিয়া (কক্সবাজার) থেকে
টানা নয় দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার মৎস্য খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কয়েক দিনের বন্যায় দুই উপজেলার অসংখ্য পুকুর ও ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ, চিংড়ি,পোনা। এতে একদিকে যেমন ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাছচাষিরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন,অন্যদিকে দুই উপজেলার মাছ উৎপাদনেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে,চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যার কারণে ১৭৮০টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মোট আয়তন ৫৬১ একর। এতে অসংখ্য মৎস্যচাষি সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সব মিলিয়ে দুই উপজেলার মৎস্য খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে,চকরিয়া উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। সেখানে ৯৫০টি পুকুর, ৩০ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ১৭৮ মেট্রিক টন মাছ এবং ১১ মেট্রিক টন চিংড়ি। মাতামুহুরী উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। উপজেলাটিতে ৭৫০টি পুকুর,৫০ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ১৩০ মেট্রিক টন মাছ এবং ২৩ মেট্রিক টন চিংড়ি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,বন্যায় কোনো মৎস্যচাষির প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুই উপজেলার শত শত মাছচাষি এখন নতুন করে উৎপাদন শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

মাতামুহুরী উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের মৎস্যচাষি তৌফিক হোসনে বলেন,অধিকাংশ পুকুরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মাছ পানির সঙ্গে বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পুকুর কাদায় ভরে গেছে। আবার অনেক জায়গায় পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে পোনা ছাড়াও সম্ভব হচ্ছে না। যেসব চাষি ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন,তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের মৎসচাষি মহিউদ্দিন পুতু বলেন,ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন,বিনামূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে পোনা ও মাছের খাদ্য বিতরণ,স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও ঘের পুনঃসংস্কারে সরকারি সহায়তা জরুরি। অন্যথায় চলতি বছরের এই ক্ষতির প্রভাব আগামী মৌসুমের মাছ উৎপাদনেও পড়বে। যা স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহ ও দুই উপজেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল আমিন বলেন,ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে মৎসচাষিদের জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলে ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারী সহায়তা দেয়া হবে।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন