ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কয়েকজন সদস্যের মোবাইল ফোন হেফাজতে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)—এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ফোনগুলো কেন নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি বোর্ড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মোবাইল ফোন ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পিসিবির কর্মকর্তাদের কাছে থাকবে। বার্মিংহামের এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট শুরু হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। তবে কোন কোন খেলোয়াড়ের ফোন নেওয়া হয়েছে, তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ড্রেসিংরুমসহ নির্ধারিত কিছু এলাকায় খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য যোগাযোগের ডিভাইস ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে পুরো টেস্ট চলাকালে খেলোয়াড়দের ফোন বোর্ডের হেফাজতে রাখার খবর নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো আনুষ্ঠানিক দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত চলছে—এমন নিশ্চিত তথ্যও পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও প্রকাশ্যে আসেনি।
সিরিজে চাপে পাকিস্তান
ইংল্যান্ড সফরে ইতোমধ্যে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে পাকিস্তান। হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে এক ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে পরাজিত হয় দলটি।
টানা দুই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ফলে শেষ টেস্টটি এখন পাকিস্তানের জন্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই।
দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তনও আনা হয়েছে। মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক ও সালমান আলী আগাসহ সাতজনকে টেস্ট স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শেষ টেস্টের দায়িত্ব নিয়েছেন মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকে।
হোয়াইটওয়াশ এড়াতে এজবাস্টনে পাকিস্তান
সিরিজ হাতছাড়া হয়ে গেলেও এজবাস্টন টেস্ট জিতে ইংল্যান্ড সফর ইতিবাচকভাবে শেষ করতে চাইবে পাকিস্তান। তবে ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের মোবাইল ফোন হেফাজতে নেওয়ার খবর দলটির চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ফোন নেওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। টেস্ট শুরুর আগে পিসিবি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া শেষ টেস্টে পাকিস্তানের লক্ষ্য থাকবে মাঠের বাইরের আলোচনা পেছনে ফেলে অন্তত একটি জয় নিয়ে সিরিজ শেষ করা।



