নিজস্ব প্রতিবেদক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার এক গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের মিত্র এনসিপি-জামায়াত জোট। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওপর নতুন করে দমন-পীড়নের নীল নকশা সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি সাজানো আইনি নাটক আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, ফয়সাল করিম মাসুদ বা আলমগীর হোসেনের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। অথচ বিএনপি সরকার নিয়ন্ত্রিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ‘সাবেক ছাত্রলীগ নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের মতে, হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য আড়াল করতেই এই ‘গ্রেপ্তার নাটক’ সাজানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এনসিপি-জামায়াত জোট হাদির মৃত্যুকে ব্যবহার করে গত নির্বাচনে আবেগতাড়িত ভোট ব্যাংক তৈরি করেছিল, যার সুবিধা এখন তারা ভোগ করছে। রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরির অপকৌশল তদন্তের নামে যেভাবে মিরপুরের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর মতো জনপ্রিয় নেতাদের জড়ানো হচ্ছে, তাকে “পুরো দস্তুর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করছেন নির্বাসিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এনসিপি ও জামায়াতের উগ্রবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। হাদি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটকে মূলত আওয়ামী লীগকে আজীবন নিষিদ্ধ করার একটি আইনি দলিল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। বিদেশি শক্তির প্রভাব ও ইনকিলাব মঞ্চ আওয়ামীপন্থী বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ এবং হাদির কার্যক্রম ছিল মূলত প্রতিবেশী দেশের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক নষ্ট করার একটি প্রজেক্ট। এখন সেই একই গোষ্ঠী বিএনপি সরকারের ছত্রছায়ায় বসে আওয়ামী লীগকে ‘ভারতীয় দোসর’ সাজিয়ে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে। হাদি হত্যাকাণ্ডের পর যেভাবে সংবাদপত্রের অফিসে (প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার) হামলা চালানো হয়েছিল, তা প্রমাণ করে যে এই আন্দোলনের আড়ালে একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল, যাদের এখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের আহ্বান দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি বলয়ের অধীনে কোনো তদন্তই নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়। হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি সত্যিই কাম্য হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক কোনো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে হতে হবে। অন্যথায়, এই বিচার প্রক্রিয়ার নামে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তা দেশের গণতন্ত্রকে চিরতরে কবর দেবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপি সরকার এবং এনসিপি-জামায়াত জোটের এই ‘একপাক্ষিক বিচার’ মূলত জুলাই-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হওয়া নির্বিচার হত্যার ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার একটি অপকৌশল মাত্র। Post navigation ভয়াল ২৫ মার্চ আজ