অর্থনীতি ডেস্ক | ঢাকা দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং তদারকি জোরদার করতে চারটি বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো— ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। সম্প্রতি এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ পাওয়া স্বতন্ত্র পরিচালকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কেন এই পর্যবেক্ষক নিয়োগ? আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে স্বতন্ত্র ও শেয়ারধারী পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো পরিচালনার চেষ্টা করা হয়। তবে তাতে পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। উল্টো নতুন নিয়োগ পাওয়া কিছু স্বতন্ত্র পরিচালকের বিরুদ্ধেই এখন দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। তদারকি আরও নিবিড় করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী: ন্যাশনাল ব্যাংকে: ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১২ এর পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরী। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে: ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। প্রিমিয়ার ব্যাংকে: পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক এ এন এম মঈনুল কবির। আইএফআইসি ব্যাংকে: ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক এ কে এম কামরুজ্জামান। নিযুক্ত এই পর্যবেক্ষকরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি এবং নিরীক্ষা কমিটির সব সভায় উপস্থিত থাকবেন এবং কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। অতীত ইতিহাস ও মালিকানা পরিবর্তন এক সময় এই ব্যাংকগুলো বিতর্কিত ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ন্যাশনাল ব্যাংক ছিল সিকদার গ্রুপের হাতে, প্রিমিয়ার ব্যাংক এইচ বি এম ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে, আইএফআইসি ব্যাংক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের অধীনে এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদের কব্জায় ছিল। পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পরও স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়ে অভিযোগ ওঠায় ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের মনে আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। Post navigation নিয়ন্ত্রণের’ বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তেলের বাজার