মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
অর্থনীতি

আকুর ১৩৯ কোটি ডলার বিল পরিশোধ, বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩১.৪৭ বিলিয়ন ডলার

অর্থনীতি রিপোর্টার ১ মাস আগে সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪২৫৫ বার পঠিত
bangladesh bank

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রোববার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে। আর মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

গত বৃহস্পতিবার বিপিএম-৬ হিসাবে দেশের রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার এবং গ্রস হিসাবে ৩৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। আকুর ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভে এই পতন হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রায় সাড়ে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সর্বশেষ জুন মাসে পণ্য আমদানিতে দেশের ব্যয় হয়েছিল ৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থাকা প্রয়োজন। সে হিসাবে বর্তমান রিজার্ভ পরিস্থিতি ওই ন্যূনতম সীমার ওপরে রয়েছে।

কয়েক মাস ধরে বাড়ছে রিজার্ভ

গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের বাজেট সহায়তা ঋণও রিজার্ভ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

গত ১৪ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা ঋণ যোগ হওয়ার পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। গ্রস রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে।

এরপর ২৯ জুন বিশ্বব্যাংকের ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণ যোগ হলে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ বেড়ে ৩২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ওই দিন গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ফলে ২ জুলাই বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩৩ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

তবে এরপর আকুর আমদানি বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন বৈদেশিক লেনদেনের কারণে রিজার্ভ কিছুটা কমেছে।

জুলাই-আগস্টে রেমিট্যান্সে প্রায় ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

রিজার্ভের প্রধান দুটি উৎস হলো রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ কমলেও রেমিট্যান্স বেড়েছিল ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এর আগে গত ৭ জুলাই মে-জুন মেয়াদের আকুর ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।

কী এই আকু

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকু এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি লেনদেনের অর্থ সাধারণত প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ আকুর সদস্য। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভারতের রপ্তানি আয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় দেশটি আমদানি পরিশোধের চেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। অন্যদিকে বেশিরভাগ সদস্য দেশকে আমদানি ব্যয়ে আয়ের চেয়ে বেশি ডলার পরিশোধ করতে হয়।

৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে রিজার্ভের পতন

একসময় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২০২১ সালের আগস্টে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ওই সীমা অতিক্রম করে।

তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক জ্বালানি, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও বাড়ে এবং রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়।

রিজার্ভের পতন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হয়। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী ২০২৩ সাল থেকে গ্রস হিসাবের পাশাপাশি বিপিএম-৬ পদ্ধতিতেও রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন