জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে উগ্র ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। তবে এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি দলটি।
প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, এএফডি পেয়েছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পেয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ। ৮৩ আসনের রাজ্য পার্লামেন্টে এএফডি প্রায় ৩৯টি আসন পেতে পারে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৪২টি আসন।
রাজ্যটিতে এএফডির শীর্ষ নেতা উলরিশ জিগমুন্ড ফলাফলকে ‘অসাধারণ’ উল্লেখ করে দাবি করেছেন, সরকার পরিচালনার জন্য ভোটাররা দলটিকে ম্যান্ডেট দিয়েছেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনে জটিল আলোচনা সামনে এসেছে। জিগমুন্ড আপাতত সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন এবং প্রয়োজন হলে নতুন নির্বাচনের কথা বলেছেন।
স্যাক্সনি-আনহাল্টে প্রায় ২১ লাখ মানুষের বসবাস। দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা রাজ্য এএফডিকে ‘ডানপন্থী উগ্রবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে জিগমুন্ড এই শ্রেণিবিন্যাস প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এএফডির সম্ভাব্য জোটসঙ্গী হিসেবে এখন বামপন্থী জনতুষ্টিবাদী দল বিএসডব্লিউকে ঘিরে আলোচনা চলছে। দলটি পাঁচটি আসন পেতে পারে এবং অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির পক্ষে। এএফডির সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনাও তারা উন্মুক্ত রেখেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্য সরকার উগ্র ডানপন্থী দলের নিয়ন্ত্রণে যায়নি। স্থানীয় সরকার গঠন করতে পারলে এএফডি পুলিশ, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্ষমতা পাবে।
এএফডির এই জয়কে জার্মান রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দলটি জাতীয় পর্যায়েও জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে। তবে মূলধারার দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে এএফডির সঙ্গে জোট না করার নীতি বা ‘ফায়ারওয়াল’ বজায় রেখে আসছে।
স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতিবেশী থুরিঙ্গিয়া রাজ্যেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে এএফডি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিল, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন করতে পারেনি।



