ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের থাকার একটি পাঁচতলা ভবন ধসে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি দাবি করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির কনভেনর অভিজিৎ দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে বলেছেন, দেশে বড় বড় রাজনৈতিক কার্যালয় তৈরি হলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকছে।রোববার বেলা দেড়টার দিকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে চাণক্যপুরী এলাকায় পাঁচতলা ভবনটি ধসে পড়ে। শিক্ষার্থীদের ‘পেইং গেস্ট’ হিসেবে থাকার জন্য ভবনটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত ১১ জন দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এমস) চিকিৎসাধীন। ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো সম্ভব না হওয়ায় সেখানে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ঘটনার পর সিজেপির একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে যায় এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ দীপকে প্রশ্ন তোলেন, অবকাঠামোগত ব্যর্থতার মূল্য শিক্ষার্থীদের আর কতদিন দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, শুধু রাজধানীর মেসবাড়ি নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকার স্কুল-কলেজের পরিকাঠামোর অবস্থাও উদ্বেগজনক।দিল্লির সব ‘পেইং গেস্ট’ হোস্টেলে নিরাপত্তা নিরীক্ষা বা সেফটি অডিটের দাবি জানিয়েছেন দীপকে। পাশাপাশি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদির অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গও টানেন সিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, ওই অনুষ্ঠানে মোদি ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি বলে প্রশ্ন তোলেন দীপকে।গত ৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনের সফরে গোয়া যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পানাজির কাছে চিম্বেল গ্রামে বিজেপির একটি দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করেন তিনি। দিল্লিতে ভবন ধসের খবর পাওয়ার পর তাঁর ওই অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়।
দীপকের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে বড় বড় বিজেপি ভবন তৈরি করা হলেও শিক্ষার্থীদের অনিরাপদ ভবনে থাকতে হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি ভবনের নিরাপত্তার বিষয় নয়; দেশের তরুণ প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রশ্ন। স্কুল, কলেজ, হোস্টেলসহ শিক্ষা অবকাঠামোর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তিনি।



