— একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার খোলা চিঠি
যে প্রবাসীদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা উপার্জনে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে, যাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের রিজার্ভের ভিত শক্ত করে, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য—দেশের মাটিতে পা রাখতেই সেই প্রবাসীদের বুক ভরে ওঠে এক অজানা আতঙ্ক আর অপমানে। নিজ ভূমিতে ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের প্রধান এয়ারপোর্টগুলোর অব্যবস্থাপনা আর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অসদাচরণের কারণে। একজন প্রবাসী হিসেবে অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে আজ এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের নিয়মিত হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিমানবন্দরে পা দেওয়া মাত্রই প্রবাসীদের দিকে এমন এক দৃষ্টিতে তাকানো হয়, যেন তারা কোনো অপরাধী কিংবা সহজে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যম। ইমিগ্রেশনের দীর্ঘ লাইন, লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা তো এখন নিত্যদিনের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ওপর যোগ হয় কাস্টমস চেকিংয়ের নামে অহেতুক জেরা এবং মালামাল তল্লাশির বাহানায় নানামুখী হয়রানি। অনেক সময় প্রবাসীদের অতি কষ্টের উপার্জনে কেনা সামান্য উপহার সামগ্রী নিয়েও নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করা হয়, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অপমানজনক।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলো যেখানে তাদের যাত্রী ও প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সম্মান ও আধুনিক সেবা দেয়, সেখানে আমাদের দেশে প্রবাসীরা পান ঠিক উল্টো আচরণ। একজন প্রবাসী যখন বছরের পর বছর পরবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ক্লান্ত শরীরে দেশের মাটিতে নামেন, তখন তাঁর প্রাপ্য থাকে একটু উষ্ণ অভ্যর্থনা, একটু সহানুভূতি। কিন্তু তার বদলে কপালে জোটে কটু কথা আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার হয়রানি।
আমরা সরকারের কাছে দয়া বা ভিক্ষা চাচ্ছি না, আমরা আমাদের ন্যূনতম নাগরিক অধিকার ও সম্মানটুকু ফেরত চাই। এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, লাগেজ ডেলিভারি প্রসেস দ্রুত ও আধুনিক করতে হবে এবং সিসিটিভি নজরদারির মাধ্যমে ঘুষ-দুর্নীতি ও দালালের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে হবে। প্রবাসীদের হয়রানির সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট কাটবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের বিনীত আবেদন—কাগজে-কলমে আমাদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বা ‘ভিআইপি’ সম্বোধন করার চেয়ে বাস্তবে বিমানবন্দরে একটু সম্মানজনক পরিবেশ দিন। এয়ারপোর্টের এই চেনা হয়রানির ছবিটা এবার বদলাক, প্রবাসীরা যেন নিজ দেশে বুক ফুলিয়ে, মাথা উঁচু করে শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে নামতে পারেন।
