অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের লাকেম্বায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশি প্রবাসীদের অন্যতম বৃহৎ চ্যারিটি উদ্যোগ ‘গুড মর্নিং বাংলাদেশ লাকেম্বা’। ক্যানসার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে কমিউনিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এনএসডব্লিউ-এর প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স।
মূল হাইলাইটস ও ঘটনাপ্রবাহ
ঐতিহ্যের ১৮ বছর: সিডনির পেরি পার্কে আয়োজিত এই চ্যারিটি প্রোগ্রামটি এবার ১৮তম বছরে পদার্পণ করল। বিগত দুই দশক ধরে এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অন্যতম বড় প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিগ টিকিট ফান্ডরেইজিং: স্বাগত বক্তব্যে প্রধান আয়োজক ফারুক হান্নান জানান, গত ২৫ বছরে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ‘ক্যানসার কাউন্সিল এনএসডব্লিউ’-এর গবেষণা ও চিকিৎসায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে।
শীর্ষ রাজনীতিকদের উপস্থিতি: অনুষ্ঠানে প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যাডো মিনিস্টার ফর মাল্টিকালচারালিজম মার্ক কুর। তারা দুজনেই বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়া গঠনে বাংলাদেশিদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

কমিউনিটির মেলবন্ধন: ফোরাম ফর কমিউনিটি এনগেজমেন্টের সভাপতি ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. আয়াজ চৌধুরীর বক্তব্যে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি উঠে আসে। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি সকালের নাশতা এবং গুণীজনদের প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি মুখরিত ছিল।
এই আয়োজনে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার এবং শ্যাডো মিনিস্টারের মতো শীর্ষস্থানীয় নীতি-নির্ধারকদের সশরীরে উপস্থিতি কেবল একটি চ্যারিটি ইভেন্টের সাফল্য নয়, বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতি ও সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান ‘সফট পাওয়ার’ বা প্রভাবেরই প্রতিফলন।
সাধারণত সিডনির লাকেম্বা ও এর আশেপাশের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে অভিবাসী ভোটারদের একটি বড় অংশই বাংলাদেশি। স্বাস্থ্য ও মানবিক খাতে এত বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করার মাধ্যমে প্রবাসীরা প্রমাণ করেছেন যে, তারা কেবল সংখ্যার দিক থেকেই বড় নন, বরং অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী অংশীদার।
সঞ্চালনা ও সমন্বয়: পুরো অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন উষা হান্নান ও অর্থোরা হায়াত। সিডনির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি ক্যানসার সচেতনতায় এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।



