জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিপুল জনআকাঙ্ক্ষা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি প্রধান ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছেন ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ব্যর্থতা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন—তরুণদের ক্ষমতালিপ্সু করে তোলা। তিনি অভিযোগ করেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তরুণ সমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা না দিয়ে ভুল পথে চালিত করেছে এবং তাদের মধ্যে ‘ক্ষমতার লোভ’ ঢুকিয়ে দিয়েছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সোয়াস অ্যান্টি–করাপশন এভিডেন্স’ (যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা কনসোর্টিয়াম) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এক-এগারো ও জুলাই অভ্যুত্থান বিষয়ে দুটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশতাক খান ও অধ্যাপক পল্লবী রায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের ৩ প্রধান ব্যর্থতা
হোসেন জিল্লুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের মূল তিনটি ব্যর্থতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করেন:
আমলাদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও আপস: পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে নতুন পথ না খুঁজে, সরকার শুরু থেকেই নিরাপদ ও রক্ষণশীল পথ বেছে নেয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বদলে পুরোনো ব্যবস্থাই বহাল থাকে।
তরুণদের ভুল দিকনির্দেশনা: সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব বিকাশে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সমাজে শিক্ষাকে কম গুরুত্ব দেওয়ার একটি প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
সংস্কার নিয়ে বিভ্রান্তি ও অবহেলা: মুখে সংস্কারের কথা বললেও সরকারের আন্তরিকতার অভাব ছিল। হোসেন জিল্লুর রহমানের ভাষায়, ইউনূস সরকার মূলত একটি ‘রিফর্ম গেম’ খেলেছে। তাদের গঠিত সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ করেছিল, সেগুলো মূল্যায়ন না করে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন হোসেন জিল্লুর রহমান। এর প্রায় দুই দশক পর, ২০২৪ সালে তরুণদের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর গত ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেয় সেই সরকার।



