একই অনুষ্ঠানে তার পুত্র ও সাবেক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দেশ আজ “দ্বিতীয় পাকিস্তান”-এ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে,
নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক দীর্ঘ ও আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেছেন। দেশের চলমান পরিস্থিতি, নিজের নিরাপত্তা, এবং বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি।
দেশে ফেরা ও জীবনের ঝুঁকি: ‘ভয় আমার দায়িত্ব থামাবে না’
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র বা আইনি প্রক্রিয়ার ভয় তাকে দেশের মানুষ থেকে দূরে রাখতে পারবে না। শেখ হাসিনা স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৮১ সালেও সামরিক জিয়াউর রহমান সরকার তাকে দেশে ফিরতে বাধা দিয়েছিল, কিন্তু তিনি দেশের মানুষের ভালোবাসায় ফিরে এসেছিলেন।
জীবনের ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাকে জেলে পাঠানো হোক কিংবা হত্যা করা হোক, দেশের মানুষের কাছে আমাকে ফিরতেই হবে। ভয় পেয়ে দেশের মানুষের প্রতি আমার যে দায়িত্ব, তা থেকে আমি পিছপা হব না।” নিজের এই প্রত্যাবর্তন ক্ষমতার জন্য নয়, বরং দেশে গণতন্ত্র, মানুষের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান ও পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা
বক্তব্যের শুরুতেই শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে সপরিবারে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “স্বজনহারানোর বেদনা বুকে নিয়েও আমি সর্বদা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে গেছি এবং এখনও তাদের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই কথা বলছি।”
নির্যাতন ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত রোধের অভিযোগ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এর সংঘাত ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেন । তার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী, সমর্থক, পুলিশ সদস্য, বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও গ্রেফতার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, তার সরকার ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই প্রতিটি মৃত্যুর সঠিক তদন্তে একটি ‘বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন’ গঠন করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ক্ষমতা গ্রহণকারী অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দেয়।
অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ধস
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমান সংকটময় অবস্থার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি কমার পাশাপাশি দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে শিল্প উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।
জঙ্গিবাদের উত্থান ও আন্তর্জাতিক সমাজের নজর দাবি
শেখ হাসিনা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তার সরকারের সময় দমন করা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গি চক্রের সাজাপ্রাপ্ত অনেক সদস্যকে জেলখানা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং সমগ্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে বলে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য
একই অনুষ্ঠানে তার পুত্র ও সাবেক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দেশ আজ “দ্বিতীয় পাকিস্তান”-এ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আওয়াদের সঞ্চালনায় এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে কর্মরত বহু আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।



