অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ এর আলোচনা সভা বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৫ আগস্ট, শনিবার এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ।
১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর শোক, বেদনা ও কলঙ্কের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য প্রাণ হারান। ঘাতকদের বুলেট থেকে রক্ষা পাননি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও তার নিকটাত্মীয়রা। ওই কালরাতে ইতিহাসের নির্মমতম হত্যাকাণ্ডে শহীদ হয়েছিলেন মোট ১৬ জন সদস্য।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ছিল জাতির মুক্তির প্রধান প্রেরণা। তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং তাঁর নেতৃত্বেই বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ঘাতকদের নির্মম বুলেটে থেমে যায় সেই মহান নেতার জীবন। শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ককেই হত্যা করা হয়নি, আঘাত হানা হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এবং জাতির ভবিষ্যতের ওপর। ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ আগস্ট ছিল একটি ব্যক্তি হত্যার ঘটনা নয়; এটি ছিল সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার এক গভীর ষড়যন্ত্র।
এই হত্যাকাণ্ডের সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা, এবং শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার অবসান ঘটে এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ১২ জন আত্মস্বীকৃত খুনির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এর মধ্যে ৬ জনের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতি বছর আগস্ট মাসকে ‘শোকের মাস’ হিসেবে পালন করে। দলটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণ করে এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে।
১৫ আগস্টের সেই বিভীষিকাময় রাতের স্মৃতি আজও কোটি বাঙালির হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে। শিশু শেখ রাসেলের নির্মম মৃত্যু বিশেষভাবে মানুষকে ব্যথিত করে। একটি শিশুকেও রেহাই না দেওয়ার ঘটনা মানবতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
আজ বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীতে দেশ-বিদেশে বসবাসরত বাঙালিরা গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন। নানা আয়োজন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং স্মরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতি তার অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক, আত্মমর্যাদার প্রতীক এবং একটি জাতির স্বপ্নের স্থপতি। তাঁর আদর্শ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র এবং মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে—এটাই জাতির প্রত্যাশা।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্টের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
শেখ হাসিনার শোক
গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর নির্মম হত্যাকাণ্ডে শহীদ তার পরিবারের সকল সদস্যকে স্মরণ করছে জাতি। এই দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ জাতিকে চিরকাল পথ দেখাবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ এর আলোচনা সভা বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৫ আগস্ট, শনিবার এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ। শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আইনজীবী ড. সিরাজুল হক।



