ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে দুই বছর কাটানোর পর সিডনি এফসিতে যোগ দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ডিফেন্ডার জেমস ওভারি। ১৮ বছর বয়সী এই রাইটব্যাক তিন বছরের চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়ান ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন পূরণের পথে নিয়মিত সিনিয়র ফুটবল খেলাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি।
২০২৪ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন ওভারি। এর আগে তিনি পার্থ গ্লোরির হয়ে খেলেছেন। ম্যানচেস্টারে কাটানো সময়কে ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন এই তরুণ।
ওভারি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল ‘সকারুজ’-এর সঙ্গে গত নভেম্বরেই যুক্ত হয়েছিলেন। কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে থাকলেও কোনো ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাননি।
জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার সেই অভিজ্ঞতা তাকে আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে দিয়েছে। সিডনি এফসিতে নিয়মিত খেলার মাধ্যমে নিজেকে আরও উন্নত করে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে চান তিনি।
সিডনি এফসিতে যোগ দিয়ে ওভারি জানিয়েছেন, সকারুজের সঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছে তিনি কোথায় পৌঁছাতে চান। নিয়মিত খেলতে পারা তার উন্নতির জন্য বড় সুযোগ এবং জাতীয় দলের হয়ে আরও সুযোগ পাওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।
নতুন ক্লাবে নিজের জায়গা করে নিতে কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সিডনি এফসিকে শিরোপা জয়ের ইতিহাস ও তরুণ অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড় তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্লাব হিসেবেও উল্লেখ করেছেন ওভারি।
সিডনি এফসির কোচ প্যাট্রিক কিসনোর মতে, ওভারি দ্রুতগতির, আক্রমণাত্মক এবং টেকনিক্যালি দক্ষ একজন খেলোয়াড়। রাইটব্যাক পজিশন থেকে আক্রমণে উঠে যাওয়ার পাশাপাশি একজন তরুণ ডিফেন্ডারের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক দৃঢ়তা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানসিকতাও তার রয়েছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো উচ্চমানের পরিবেশে দুই বছর কাটানোর পর এখন ওভারির নিয়মিত সিনিয়র ফুটবল খেলা প্রয়োজন বলে মনে করেন কিসনোর। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সকারুজের আশপাশে থাকার সুযোগ পাওয়া তার প্রতিভা ও মানসিকতার প্রতি আস্থারও প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি।
বুধবার রাতে অস্ট্রেলিয়া কাপের সেমিফাইনালে মেলবোর্ন ভিক্টরির বিপক্ষে সিডনি এফসির ম্যাচে অভিষেক হতে পারে ওভারির। জুবিলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ওই ম্যাচ দিয়েই নতুন ক্লাবে তার সিনিয়র ফুটবলের যাত্রা শুরু হতে পারে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিজের সময়কে ‘অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ওভারি। সেখানে সতীর্থদের কাছ থেকে কৌশলগত, টেকনিক্যাল ও শারীরিক দিকের অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা এবার সিডনি এফসিতে কাজে লাগিয়ে নিজের সামর্থ্য দেখাতে চান অস্ট্রেলিয়ার এই উদীয়মান ফুটবলার।



