যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি কার্গো উড়োজাহাজ রানওয়ে থেকে বেরিয়ে গিয়ে কয়েকটি যানবাহনে আঘাত হানলে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটজনক।রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে ২১ এয়ার পরিচালিত অ্যামাজনের ফ্লাইট ৭৫৯৮ বিমানবন্দরের আড়াআড়ি রানওয়ে থেকে বেরিয়ে গিয়ে মাটিতে থাকা কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করে।
মায়ামি-ডেড ফায়ার চিফ রে জাদাল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটির ভেতরে পাইলট ও কো-পাইলট এবং ধাক্কা লাগা দুটি যানবাহনে দুজন আটকা পড়েন।উদ্ধারকাজে ৬০টির বেশি ইউনিটের প্রায় ২০০ জন কর্মী অংশ নেন। দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজ থেকে জ্বালানি চুইয়ে পড়ায় সন্ধ্যা পর্যন্ত তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। রোববার সন্ধ্যার মধ্যে চারটি রানওয়ের মধ্যে দুটি আবার চালু করা হয়।দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি ছিল ৩২ বছর পুরোনো বোয়িং ৭৬৭-৩০০ ফ্রেইটার।
এটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামির উদ্দেশে উড়েছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, রানওয়ে থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উড়োজাহাজটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১১২ নট। উড়োজাহাজটি ১৯৯৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।মায়ামি-ডেড কাউন্টির মেয়র ড্যানিয়েলা লেভিন কাভা নিহত ও আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
২১ এয়ারও দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে।দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) একটি তদন্ত দল পাঠিয়েছে। দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থাটির চেয়ারওম্যান জেনিফার হোমেন্ডি। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও (এফএএ) তদন্ত শুরু করেছে এবং মায়ামিগামী আগত ফ্লাইটের ওপর সাময়িক গ্রাউন্ড স্টপ জারি করেছিল। অ্যামাজন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।
অ্যামাজন-সংশ্লিষ্ট কার্গো উড়োজাহাজের এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০১৯ সালে অ্যামাজনের হয়ে পরিচালিত অ্যাটলাস এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭ হিউস্টনের কাছে বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটিতে থাকা তিনজনই নিহত হন।



