দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৮১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুধবারের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে তিনজন, বরিশালে দুজন এবং খুলনা বিভাগে একজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাম নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য সংরক্ষণ শুরু করে।
সরকারি হিসাবে, এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ছয় মাসে হামে ও এর উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৪৪ জন।
ঢাকায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে মারা গেছেন ৪২৫ জন। এরপর সিলেট বিভাগে ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭১, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২৩৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৪১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগে ৩৬৭ জন, চট্টগ্রামে ২৭১, সিলেটে ১৯৩, বরিশালে ১০৮, খুলনায় ৯৭, ময়মনসিংহে ৬৩, রাজশাহীতে ২৫ এবং রংপুরে ১৭ জন ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তি দেড় লাখের বেশি
এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অন্যদিকে, দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮। এর মধ্যে ২০ হাজার ২৮২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই দেশে হামে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০০৫ সালে দেশে তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৫ হাজারের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছিল।




