মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
ফোকাস

ক্রমবর্ধমান জাঙ্কফুডের আসক্তি ও শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি

ইবনে জামান, ঢাকা : ১ মাস আগে শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২৫২ বার পঠিত

বর্তমান প্রজন্মের শিশু ও কিশোরদের মধ্যে জাঙ্কফুড বা ফাস্টফুডের প্রতি আসক্তি দিন দিন মহামারি রূপ ধারণ করছে। পুষ্টিকর ও ঘরে তৈরি খাবারের পরিবর্তে পিৎজা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, নুডলস এবং কার্বোনেটেড পানীয়র প্রতি এই অতিরিক্ত ঝোঁক দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শহর থেকে শুরু করে মফস্বল—সবখানেই জাঙ্কফুডের সহজলভ্যতা ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন শিশু-কিশোরদের মন জয় করছে। স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে কিশোর বয়সীদের টিফিন বক্স বা আড্ডার প্রধান অনুষঙ্গ এখন এসব প্রক্রিয়াজাত খাবার। সহজলভ্যতা, মুখরোচক স্বাদ এবং দ্রুত খাওয়ার সুবিধার কারণে অভিভাবকরাও অনেক সময় ব্যস্ততার অজুহাতে শিশুদের হাতে এসব খাবার তুলে দিচ্ছেন, যা পরবর্তীতে মারাত্মক আসক্তিতে রূপ নিচ্ছে।

নিয়মিত জাঙ্কফুড গ্রহণের ফলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:

স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন: জাঙ্কফুডে প্রচুর পরিমাণে অস্বাস্থ্যকর চর্বি, সোডিয়াম ও ক্যালোরি থাকে, যা দ্রুত ওজন বৃদ্ধি করে এবং ছোটদের মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি করে।

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি: অল্প বয়সেই টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো জটিল রোগ বাসা বাঁধছে।

পুষ্টির ঘাটতি: এসব খাবারে ক্যালোরি থাকলেও প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিন থাকে না। ফলে পুষ্টিহীনতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

মস্তিষ্কের বিকাশ ও মানসিক স্বাস্থ্য: অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত উপাদান শিশুদের মনোযোগে ঘাটতি (ADHD), খিটখিটে মেজাজ এবং বিষণ্নতা বাড়িয়ে দেয়।

পাচনতন্ত্রের সমস্যা: ফাইবার বা আঁশবিহীন এসব খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক এবং অন্যান্য পরিপাকজনিত জটিলতা সৃষ্টি করে।

এই নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে শিশু-কিশোরদের রক্ষা করতে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যেমন-

পরিবারের সচেতনতা: বাবা-মাকে ঘরের তৈরি সুষম ও পুষ্টিকর খাবারকে প্রাধান্য দিতে হবে। টিফিনে ফাস্টফুডের পরিবর্তে ফলমূল, ডিম ও স্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

বিজ্ঞাপনে নিয়ন্ত্রণ: শিশুখাদ্যের নামে অস্বাস্থ্যকর জাঙ্কফুডের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচারের ওপর কঠোর নজরদারি ও নীতিমালা প্রয়োজন।

স্কুল ক্যাম্পাসে নিষেধাজ্ঞা: স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাফেটেরিয়ায় জাঙ্কফুড ও কোমল পানীয় বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা উচিত।

শারীরিক কার্যক্রম: ভিডিও গেম বা স্ক্রিনটাইম কমিয়ে খেলাধুলা এবং শারীরিক পরিশ্রমমূলক কার্যক্রমে শিশুদের উৎসাহিত করতে হবে। মোদ্দাকথা, শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, বরং সামাজিকভাবে জাঙ্কফুডের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ জাতি গঠনে আগামী প্রজন্মকে এই আসক্তি থেকে মুক্ত করার এখনই উপযুক্ত সময়।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন