অস্ট্রেলিয়া জুড়ে সাশ্রয়ী ভাড়ার জন্য পরিচিত জনপ্রিয় এয়ারলাইন্স ‘জেটস্টার’ যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও পরিচালনা করে, তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি এক যাত্রী জেটস্টারের ইকোনমি ক্লাসে মাত্র ৫৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মধ্যে সিউল (দক্ষিণ কোরিয়া) আসা-যাওয়ার রিটার্ন টিকিট কেটে ভ্রমণের এক দারুণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। এই ভাড়ার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত ছিল চেকড ব্যাগেজ, সিট সিলেকশন এবং মিল বা খাবারের সুবিধা।
ভ্রমণে আগে থেকেই ‘বিফ লাসানিয়া’ কিংবা ‘ভেজিটেবল টেরিয়াকি নুডুলস’-এর মতো গরম খাবার প্রি-অর্ডার করার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া বিমানে ওঠার পরও ইন-ফ্লাইট মেনু থেকে খাবার ও পানীয় কেনার সুযোগ থাকে। তবে ফ্লাইটের স্ন্যাকস বা খাবারের স্বাদ মাঝারি মানের হওয়ায় পরবর্তী ভ্রমণের জন্য তা না নেওয়ারই পরামর্শ দিয়েছেন এই যাত্রী।
দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার যাত্রায় সিট সিলেকশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগাম আসন বুকিংয়ের মাধ্যমে বিমানের সামনের দিকে সিট বেছে নেওয়া সম্ভব। অগ্রিম সিট বুক না করলে চেক-ইন এর সময় স্থান নির্ধারিত হয়, যার ফলে মাঝখানের সিটে আটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এই ফ্লাইটে পর্যাপ্ত লেগরুম থাকায় আরামদায়কভাবেই পা ছড়িয়ে বসা সম্ভব ছিল।
জেটস্টারে ৪০ কজি পর্যন্ত চেকড ব্যাগেজ কেনার সুযোগ রয়েছে এবং যাত্রী প্রয়োজন অনুযায়ী তা যুক্ত করতে পারেন। ক্যারি-অন ব্যাগেজের ক্ষেত্রে দুটি ব্যাগে মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৭ কেজি পর্যন্ত নিয়ম কড়াকড়িভাবে মেনে চলা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই ব্যাগেজ নিয়মে নতুন কিছু পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
মাত্র ১৫ অতিরিক্ত ডলারে বিমানের স্ক্রিনে বিনোদনের সুবিধা যুক্ত করা যায়। এতে জনপ্রিয় ও ক্লাসিক সিনেমা সহ নতুন ছবি ও টিভি শো দেখার চমৎকার সুযোগ রয়েছে, যা দীর্ঘ ভ্রমণকে বোরিং হওয়া থেকে রক্ষা করে।
কম খরচে ঘন ঘন ভ্রমণের জন্য এ ধরনের বাজেট এয়ারলাইন্স বেশ উপযোগী। অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্টধারীরা চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত কোনো ভিসা ওয়েভার ছাড়াই দক্ষিণ কোরিয়া ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে ভ্রমণের আগে অনলাইনে ই-অ্যারাইভাল কার্ড জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।




