সিডনিতে উৎসবমুখর, ভক্তিময় ও আবেগঘন পরিবেশে দশমবারের মতো মহালয়া উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। ৪ অক্টোবর, রবিবার সিডনির রোজলিয়া কমিউনিটি সেন্টার, ৬৪৫–৬৭১ পেন্যান্ট হিলস রোড, বিক্রফট, নিউ সাউথ ওয়েলস-এ এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালির উপস্থিতিতে মহালয়ার এই আয়োজন পরিণত হয় ধর্মীয় আবহ, বাঙালি সংস্কৃতি এবং প্রবাসী জীবনের এক আন্তরিক মিলনমেলা
শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা বাঙালির মনে যে বিশেষ আবেগ সৃষ্টি করে, তারই প্রতিফলন দেখা যায় পুরো আয়োজনে। চণ্ডীপাঠ, সংগীত ও মঞ্চ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় মহালয়ার চিরায়ত আবহ। প্রবাসের মাটিতে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পরিচিত করে তোলাও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি মহালয়ার ইতিহাস ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক তাৎপর্য সংক্ষেপে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি স্মৃতিচারণ করেন সিডনিতে বিপিএ-র মহালয়া উদ্যাপনের শুরুর দিনগুলোর কথা। দশ বছর আগে কীভাবে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন এই আয়োজন শুরু করেছিল, কীভাবে সীমিত পরিসরের সেই উদ্যোগ ধীরে ধীরে প্রবাসী বাঙালিদের অন্যতম পরিচিত শারদীয় আয়োজনে পরিণত হয়েছে, তিনি তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন। বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের মহালয়া আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। এবারের মহালয়া মঞ্চায়ন পরিচালিত হয় সুমিতা দে ও অনুপম গোস্বামীর তত্ত্বাবধানে। তাঁদের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় সংগীত, আবৃত্তিময় উপস্থাপনা এবং মঞ্চের বিভিন্ন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের আগমনী আবহ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল শরতের আবাহন, দেবীর আগমন এবং শুভশক্তির জাগরণের প্রতীকী প্রকাশ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল চণ্ডীপাঠ। জ্যোতি বিশ্বাস তাঁর কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ পরিবেশন করেন এবং জন্মেজয় রায় তবলায় সহযোগিতা করেন। চণ্ডীপাঠের ধ্বনি ও তবলার ছন্দ মিলিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় এক গভীর আধ্যাত্মিক আবহ। সংগীত ও মঞ্চায়নের সঙ্গে এর সমন্বয় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের যেন কিছু সময়ের জন্য বাংলার চিরচেনা শারদীয় পরিবেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
রবিবারের এই আয়োজনে সিডনির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কমিউনিটির সদস্যদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। দীর্ঘদিন পর পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা, পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আসন্ন দুর্গোৎসবকে ঘিরে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে এক সামাজিক মিলনক্ষেত্রও। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি দিবাকর সমদ্দার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। দশম মহালয়ার এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন স্বাগত জানাল আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে, আর প্রবাসী বাঙালিদের মনে ছড়িয়ে দিল দেবীপক্ষের আগমনী বার্তা।
সিডনিতে পাল বাড়ির দুর্গাপূজা
‘দেবীপক্ষের বিস্তারিত
সময়সূচি প্রকাশ
আশ্বিনের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিডনিতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সিডনি দুর্গাপূজা (পাল বাড়ির পুজো) ‘দেবীপক্ষ’। আগামী ১৯ অক্টোবর , সোমবার সিডনির কার্নস কমিউনিটি হলে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ উৎসব উদযাপিত হবে। আয়োজকদের মতে, “বিশ্বাসের উদযাপন এবং মেলবন্ধনের ঐতিহ্য” স্লোগানকে সামনে রেখে ভক্তদের একত্রিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানটি সকাল ১১ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত একটানা পরিচালিত হবে। দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের বিস্তারিত সময়সূচির মধ্যে রয়েছে- দুপুর ১২:৩০ মিনিট: মহাঅষ্টমী অঞ্জলি , দুপুর ১:০০ টা: প্রসাদ বিতরণ, বিকেল ৪ টা: কীর্তন পরিবেশনা, বিকেল ৫ টা: দেবী বন্দনা ও আরতি, সন্ধ্যা ৬ টা: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান , রাত ৮:৩০ মিনিট: নৈশভোজ (ডিনার)। অনুষ্ঠানস্থল: কার্নস কমিউনিটি হল, কার্নস, নিউ সাউথ ওয়েলস।
প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন এবং ঐতিহ্য উদযাপনে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রন জানানো হয়েছে।




