পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ২৭ শিক্ষার্থী ও এক নারী শিক্ষিকাসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। বৃহস্পতিবার পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় আল-খায়ের স্কুলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ হয়েছে। আহত ১৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং সেখানে আর কোনো আহত শিশু পড়ে নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ছিল। ছাদ ধসে পড়লে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওপরের তলার ছাদ ধসে নিচের দুই তলার কাঠামোও ভেঙে পড়ে।
পেশোয়ারের ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ কর্মকর্তা ড. মিয়ান সাঈদ আহমেদ জানিয়েছেন, ভবনটির কাঠামো দুর্বল ছিল। দুর্বল কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্মাণের ভার থাকায় ছাদটি ধসে পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। উদ্ধারকাজে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা অংশ নেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে ট্রাফিক পুলিশকে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য বিশেষ পথ বা ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করার নির্দেশ দেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশপ্রধান জুলফিকার হামিদ।
এদিকে, দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি। তিনি ঘটনার কারণ নির্ধারণ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। আহত শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দুর্ঘটনায় ‘গুরুতর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্কুলের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নিরাপত্তার মান মেনে নির্মিত হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
পাকিস্তানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির কারণে ভবন ও ছাদ ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। গত জুনে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়। এর আগে ডেরা গাজি খানে একটি বেসরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছিল। সূত্র দ্য ডন।




