মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
আন্তর্জাতিক

চাপে ম্যাক্রোঁ সরকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান : ফ্রান্সজুড়ে তাণ্ডব অব্যাহত

ডেস্ক রিপোর্ট ১ সপ্তাহ আগে সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩৮৬৪ বার পঠিত

ফ্রান্সজুড়ে টানা বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাটে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন শহরে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার। সংকটের মধ্যে পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগ গ্রহণ করেননি ম্যাক্রোঁ।

বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল অবস্থা, শিক্ষকসংকট ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়। গত মাসে প্যারিসের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সূচনা হলেও দ্রুত তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষক, পেনশনভোগী ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও এতে যোগ দেন। শনিবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিভিন্ন স্থানে ভবনে আগুন দেওয়া হয়, দোকানপাটে হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়। আনুমানিক দেড় হাজার দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাট বা ধ্বংসের শিকার হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাবে উঠে এসেছে। মার্সেই শহরের সিটি হলে কিছু সময়ের জন্য বিক্ষোভকারীরা ঢুকে পড়েন। লিওঁর পর্যটন কার্যালয় এবং লিমোজ শহরের সিটি হলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

রোববারও রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা অব্যাহত ছিল। এদিন শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাঁচটি দোকানে লুটপাটের খবর পাওয়া যায়। শাতলে এলাকায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। মধ্যরাত পেরিয়েও কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা চলতে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে রোববার পদত্যাগের প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে ধারাবাহিক নেতৃত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে তাঁর পদত্যাগ প্রত্যাখ্যান করেন ম্যাক্রোঁ। এতে সংকট মোকাবিলায় সরকারের ওপর চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সোমবার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকবেন। অর্থনীতি, বীমা খাত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব পাবে। এদিকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে দেশটির বিভিন্ন শহরের মেয়রদের স্থানীয় সময় দুপুরে নিজ নিজ সিটি হলের বাইরে জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবস্থা ও শিক্ষকসংকট থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমে বৃহত্তর অসন্তোষে রূপ নিয়েছে। গত ৫ অক্টোবর সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত উড়ে যাওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে। দক্ষিণ ফ্রান্সে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জেলেরা কয়েকটি বন্দরে অবরোধ করেন। একই সঙ্গে পুরোনো ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীদেরও আবার সক্রিয় হতে দেখা গেছে।

ফ্রান্সের বাইরেও ইউরোপের কয়েকটি দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালির মিলানে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। সেখানে সংঘর্ষের পর পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। আলবেনিয়াতেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দাঙ্গা পুলিশের দিকে পাথর ও পেট্রলবোমা ছোড়ার ঘটনা ঘটে।

ফ্রান্সে বিক্ষোভের ব্যাপকতা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ম্যাক্রোঁ সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর দেশটির।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *