মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ বিষয়ে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সোমবার থেকেই তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে।
এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েকশ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, তাঁর কারণে বিএনপি বা সরকার যেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ আড়ালে চলে না যায়, সে বিবেচনা থেকেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকলেও মাদক নির্মূলসহ জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ চালিয়ে যাবেন।
এর আগে শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন ইশরাক। এর একটি ভিডিওতে তাঁকে রেললাইনের পাশের একটি এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির হাতেও অস্ত্র ছিল। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর একজন জনপ্রতিনিধি এভাবে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইশরাকের পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে।
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ফলে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রীর সংখ্যা ২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ২৩ জন।




