মূল কনটেন্টে যান
সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন
ব্রেকিং
পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলে লুলার বিস্ময়কর বিজয়, চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট: মোদিসহ বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন◆ইরানে হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প◆যাত্রা শুরু ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, আজ উড়ছে প্রথম বাণিজ্যিক ও কাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট◆ফের ডিভি লটারি, তালিকায় নেই বাংলাদেশ◆৩০ অক্টোবর চালু হচ্ছে সিডনির নতুন মেট্রো◆তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১৬ : বিধ্বস্ত ৩ শতাধিক বাড়িঘর◆
রাজনীতি

বাংলাদেশের ২৪-এর আন্দোলনকে সমর্থন বা ভারতের সাথে তুলনা করেননি নেহা বোরা

ডেস্ক রিপোর্ট ২ দিন আগে শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬১৪১ বার পঠিত

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলন (যা পরবর্তীতে সহিংস গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়) সমর্থন কিংবা ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টির আহ্বান জানাননি ভারতের অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরা। বাংলাদেশের একটি বামপন্থি ছাত্রসংগঠনের সম্মেলনে পাঠানো তাঁর ভিডিও বার্তার অংশবিশেষ কেটে প্রচার করেছিল বাংলাদেশের উগ্রপন্থি কিছু ফেসবুক পেজ যেগুলো মৌলবাদীদের বটবাহিনী হিসাবে পরিচিত। এসব খন্ডিত ভিডিওকে ভিত্তি ধরে বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যও রিপোর্ট করেছিল যে নেহা বোরা আন্দোলনের শক্তি পেয়েছেন নাহিদ-সারজিস-হাসনাতদের আন্দোলন থেকে। কিছু গণমাধ্যমে তাঁকে ‘বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি’ ভারতে সৃষ্টির পক্ষের ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সেই ভিডিওটি আবার সামনে এসেছে। নেহা বোরা এই ভিডিওটি যারা তাকে পণ্য বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য কাটপিস বানিয়ে প্রচার করেছিলেন তাদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের একটি বামপন্থি ছাত্রসংগঠনের সম্মেলনে পাঠানো তাঁর ভিডিও বার্তার অংশবিশেষ কেটে প্রচার করেছিল বাংলাদেশের উগ্রপন্থি কিছু ফেসবুক পেজ যেগুলো মৌলবাদীদের বটবাহিনী হিসাবে পরিচিত। এসব খন্ডিত ভিডিওকে ভিত্তি ধরে বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যও রিপোর্ট করেছিল যে নেহা বোরা আন্দোলনের শক্তি পেয়েছেন নাহিদ-সারজিস-হাসনাতদের আন্দোলন থেকে

নেহার বক্তব্যের একটি সংক্ষিপ্ত অংশ ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের প্রগতিশীল মহলে বিস্ময় তৈরি হয়েছিল। প্রচার করা হয়েছিল, বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলন ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত এবং নেহা সেই পথ অনুসরণের পক্ষে। অথচ তাঁর বক্তব্যটি ছিল নির্দিষ্ট একটি বামপন্থি ছাত্রসংগঠনের সংগ্রাম নিয়ে, বাংলাদেশের ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান বা পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নয়।

গত ১৩ অক্টোবর বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (এসএসএফ) ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে ভিডিও বার্তা পাঠান নেহা। কারণ, পাসপোর্ট ও ভিসাসংক্রান্ত জটিলতায় তিনি এবং এআইএসএর আরেক নেতা অদিতি মিশ্র সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি।

এক মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের বার্তায় নেহা বাংলাদেশের ছাত্রফন্টের গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরোধিতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীন চিন্তার পরিবেশ রক্ষার সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের অধিকার সংকুচিত হওয়া, শিক্ষার বেসরকারীকরণ ও শিক্ষার ‘গেরুয়াকরণের’ প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ জানান তিনি। দক্ষিণ এশিয়ায় গণতন্ত্র ও শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান। সেই ভিডিওর কর্নারে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের লোগোও ছিল। বাংলাদেশের ‌’বট বাহিন’ ক্রপ করে সেই লোগো ছেটে ফেলেছিল যেন নেহার মুখ দিয়ে ২৪ এর আন্দোলনকে মহিমন্বিত করা যায়। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক কাভারেজ প্রমাণ দিয়েছিল এরা সফলও হয়েছিল।

কীভাবে ছড়াল বিভ্রান্তিকর দাবি

বাংলাদেশের বটবাহিনী ভিডিওগুলো প্রচার করার পর এদেশের গণমাধ্যগুলোও গুরুত্ব দিয়ে নেহার বক্তব্য প্রচার করে। সেদিন থেকেই মূলত নেহার পাহাড়সমান জনপ্রিয়তায় ধস নামে ভারতের আন্দোলনও গতি হারায়। এপর ১৫ অক্টোবর বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, নেহা ভারতে বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলনের পুনরাবৃত্তি চান। একই দিন বিজেপির আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে তাঁর বক্তব্যের একটি সংক্ষিপ্ত অংশ প্রকাশ করা হয়। পরে বিভিন্ন ডানপন্থি ভাষ্যকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দাবি করা হয়, তিনি ভারতে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান। কোনো কোনো প্রচারে তাঁকে সহিংসতার মাধ্যমে সরকার উৎখাত ও হিন্দুদের হত্যার সমর্থক হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম রিপাবলিকের প্রধান সম্পাদক অর্ণব গোস্বামীও বক্তব্যটিকে ভারতে ‘বাংলাদেশ মডেল’ বাস্তবায়নের আহ্বান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী)-এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, নেহা বাংলাদেশের আন্দোলনে সংঘটিত সহিংসতাকে সমর্থন করেননি; তাঁর বক্তব্য প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে প্রচার করা হয়েছে। এআইএসএর সাবেক সভাপতি ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুচেতাও বলেন, বার্তাটি এসএসএফের কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছিল এবং নেহা ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল ছাত্রদের সংগ্রামের কথা বলেছেন।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ব্যাখ্যায় নেহা বলেন, ডানপন্থি অ্যাকাউন্টগুলো মূল ভিডিও থেকে সম্মেলনের পরিচিতিমূলক অংশ সরিয়ে প্রচারের কাজে ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা বলতে তিনি পুরো গণঅভ্যুত্থান কিংবা পরবর্তী সময়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা সব রাজনৈতিক শক্তিকে বোঝাননি।

লেখা : ভারতের ইংরেজি ভাষার গণমাধ্যম NewsLaundry অবলম্বনে।

বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *