বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবময় ৭৭তম প্রতিষ্টাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রবিবার সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্টান ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। আইনজীবি ড. সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক হুইপ এডভোকেট সানজিদা খানম। বিশেষ অথিতি ছিলেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা গামা আব্দুল কাদের। প্রধান বক্তা ছিলেন ড. আবুল হাসনাত মিল্টন ও বিশেষ বক্তা ছিলেন গাউসুল আলম শাহজাদা। অনুষ্ঠানে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সিডনির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা স্মরণ করেন। তিনি ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যারা এই দলটিকে গড়ে তুলতে অবদান রেখেছেন, সেই সকল ত্যাগী প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সারির নেতৃবৃন্দের নাম ধরে ধরে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু একটি দল নয়, এটি বাঙালি জাতির প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এক অবিনাশী নাম। নেত্রীর এই সাহসী সিদ্ধান্ত দেশের ঝিমিয়ে পড়া ছাত্র-জনতা ও নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি তার বক্তব্যে বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ওপর চলমান মিথ্যা মামলা, হামলা ও নানামুখী নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। তিনি অবিলম্বে এই রাজনৈতিক নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, “নির্যাতন চালিয়ে বা ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগের মতো প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। যেকোনো পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীরা রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। নেত্রীর এই সাহসী সিদ্ধান্ত দেশের ঝিমিয়ে পড়া ছাত্র-জনতা ও নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করবে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাহস ও সঠিক সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে তারা দেশ ও জনগণের স্বার্থে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। বলেন, “নেত্রীর এই সাহসী সিদ্ধান্ত দেশের ঝিমিয়ে পড়া ছাত্র-জনতা ও নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করবে।
টঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধের শপথ ও নীরবতা পালন:
অনুষ্ঠানের একটি আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ মুহূর্তে বক্তারা টঙ্গীতে ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর চালানো নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের উপযুক্ত ও আইনি প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় শপথ গ্রহণ করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। এরপর নিহত ছাত্রলীগ কর্মীদের আত্মার মাগফিরাত ও স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সভাকক্ষে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সুসংহত করার আহ্বান:
বক্তারা দলের আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক ভিত মজবুত করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে আরও সুসংহত, সুশৃঙ্খল এবং গতিশীল করার জোর আহ্বান জানান। তারা বলেন, “ছাত্রলীগ ও যুবলীগ হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে এই দুই ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনকে সুসংগঠিত করার কোনো বিকল্প নেই।”
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজ:
গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘ আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের বিনোদনের জন্য এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। সবশেষে, উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং নেতাকর্মীদের সম্মানে এক প্রীতি নৈশভোজের আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



